ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যেন ছিনতাই-ডাকাতির অভয়াশ্রম

মো. আকাশ | সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) | প্রকাশিত: ০১:১০ পিএম, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকেই নারায়ণগঞ্জে বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে ছিনতাইকারী-ডাকাতদের দৌরাত্ম্য কয়েকগুণ বেড়েছে। এই অপরাধীরা প্রতিনিয়ত মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষের সর্বস্ব লুট করে তাদের আঘাতও করছে। যার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে ভীতি তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় একের পর এক এসব ঘটনা সংঘটিত হলেও তারা পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ।

দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা টোলপ্লাজার প্রায় ২১ কিলোমিটারে ছিনতাই-ডাকাতি নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলায় উজ্জ্বল আলোতে এই কার্যক্রম দৃশ্যমান না হলেও সূর্যের আলো নামতেই সংঘবদ্ধ অপরাধীরা মানুষের জানমালের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। বলা চলে মহাসড়কের এই অংশটুকু তাদের অভয়ারণ্য। আর এসব কার্যক্রমে সুবিধা করে দিচ্ছেন সড়কজুড়ে না থাকা আলোকবাতি এবং যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ে সৃষ্টি হওয়া যানজট।

সড়ক পরিদর্শন করে দেখা গেছে, মহাসড়কের বেশিরভাগ অংশে সড়কবাতি নেই। যার ফলে দিনের বেলায় ঠিকঠাক থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে চলাচলকারী পরিবহনের আলো ব্যতীত মহাসড়ক অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে থাকে। আর আলো না থাকার এই সুযোগকে অপব্যবহার করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি তুলনামূলক সিসি ক্যামেরারও ঘাটতি রয়েছে।

অপরদিকে বিভিন্ন মিল-ইন্ডাস্ট্রির মালামাল আনা-নেওয়ার কাজে নিয়োজিত বড়বড় কন্টেইনারও মহাসড়কে থামিয়ে রাখার কারণে প্রায় সময়ই যানজট সৃষ্টি হয়ে গাড়ি আটকে থাকে। গাড়ি আটকে থাকার সময়টাতে সংঘবদ্ধ অপরাধীরা মানুষকে হামলা করে সর্বস্ব লুটে নিয়ে যায়।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, মহাসড়কের সাইনবোর্ড, কাঁচপুর ব্রিজ ও ব্রিজের নিচ, মদনপুর বাসস্ট্যান্ড, লাঙ্গলবন্দ ব্রিজের আশপাশ, মোগরাপাড়া এবং মেঘনা টোলপ্লাজায় প্রতিনিয়ত ডাকাতি হচ্ছে। এতে নিঃস্ব হচ্ছে ভুক্তভোগীরা।

এদিকে ডকাত-ছিনতাইকারীদের এমন তাণ্ডব প্রশাসনের কার্যক্রমে ত্রুটির দায়ে ঘটছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। মানুষজন বলছে, বর্তমান সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে অপরাধীরা বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। যার ফলে মানুষ প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রশাসন আদৌ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না।

গেলো কয়েক মাসে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ডাকাতি-ছিনতাইয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওগুলোর মধ্যকার কয়েকটির বিবরণ তুলে ধরা হলো-

গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে মহাসড়কের সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন, নয়াগাঁও এবং আষাঢিয়ারচর এলাকায় তিনটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সে রাতে তারেক রহমানের জন্য পূর্বাচলে আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দিতে যাওয়ার সময়ে পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় ডাকাতদের হামলার শিকার হন কুমিল্লার লালমাই থানার বিএনপি নেতা শহীদ, বাবুল মেম্বার, মনির হোসেনসহ কয়েকজন বিএনপি নেতা। তাদের গাড়ি ভাঙচুর করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল। হামলায় আহত হন বিএনপির অন্তত পাঁচ নেতা।

একই রাতে আষাঢ়িয়ারচর এলাকায় আরেকটি গাড়ি বহরে থাকা বিএনপি নেতাদের ওপর হামলা করে তাদের সর্বস্ব লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ভোরে নয়াগাঁও এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতদের হামলায় আহত হন কাতার প্রবাসী রিফাতুজ্জামান।

এরপর (২ জানুয়ারি) রাতে সাইনবোর্ড অংশে প্রকাশ্যে একদল ডাকাত ডাকাতি করার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর একদিন যেতে অর্থাৎ (৩ জানুয়ারি) আবু আইয়ুব আনসারী নামক এক ইসলামী বক্তা মেঘনা ব্রিজের সামনে ঘটা ডাকাতির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কাঁচপুর থেকে সোনারগাঁও মেঘনা ব্রিজের পুরো রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যাম ছিল। আর এই জ্যামের মধ্যেই একের পর এক বাস, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস ভাঙচুরসহ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এটা আসলে অত্যন্ত দুঃখজনক। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো একটি জায়গায় কোনো প্রশাসন চোখে পড়েনি, এই হচ্ছে আমাদের দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তার অবস্থা।’

জানতে চাইলে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী জাগো নিউজকে বলেন, আমরা সড়কজুড়ে নিয়মিত টহলে থাকি। আমি এখানে জয়েন করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০ জনকে থানায় হস্তান্তর করেছি। মূলত এখানে মেঘনাসহ বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি থাকায় তাদের বড় বড় কন্টেইনার গাড়ি থামিয়ে রাখা হয়। ফলে যানজট সৃষ্টি হয়, আর এই যানজটের সুযোগেই অপরাধীরা এসব কৃতকর্ম করছে। আমাদের কোনো গাফিলতি নেই।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিবুল্লাহ বলেন, মহাসড়ক হাইওয়ের থানার অধীনে থাকা সত্বেও আমরা উপজেলা ও মহাসড়কের জন্য প্রতিদিন ৫টি টহল টিম রেখেছি। অপরাধী নির্মূলে আমরা নিয়মিত অভিযানও দিচ্ছি।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক বলেন, আমি যোগদানের পর থেকে আমাদের থানা এরিয়ায় ডাকাতি কিংবা ছিনতাইয়ের মামলা হয়নি। ইতঃপূর্বে হলেও সেটা আমার দেখে বলা লাগবে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ- সার্কেল) মো. ইমরান আহম্মেদকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমরা ডাকাতি ছিনতাই রোধে তৎপর রয়েছি। ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নারায়ণগঞ্জে আমাদের দুটি টহল টিম নিয়মিত কাজ করছে।

এফএ/এমএস