ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

যশোর-৩

সম্পদ বেশি জামায়াতের কাদেরের, মামলায় বিএনপির অমিত

জেলা প্রতিনিধি | যশোর | প্রকাশিত: ০৪:২৫ পিএম, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ (সদর) আসনে শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নামে অর্ধশতাধিক মামলা থাকলেও জামায়াত প্রার্থী আব্দুল কাদেরের নামে কোনো মামলা নেই। যদিও মামলাগুলো রাজনৈতিক বলে উল্লে করেছেন অমিত। পেশায় ব্যবসায়ী এই দুই প্রার্থীর মধ্যে সম্পদ বেশি জামায়াত প্রার্থী কাদেরের এবং আয় বেশি বিএনপির অমিতের।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের স্থাবর-অবস্থাবর সম্পদ ১২ কোটি ৭০ লাখ টাকার। তার বার্ষিক আয় প্রায় ৯৩ লাখ টাকা। আর জামায়াত প্রার্থী আব্দুল কাদেরের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ২১ কোটি ১৮ লাখ টাকার; তার বার্ষিক আয় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা। অমিতের নামে ৫৩টি মামলা থাকলেও মামলা নেই কাদেরের।

অমিতের সম্পদ কম, আয় বেশি

যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছোট ছেলে অমিত এমএসসি, এমবিএ পাস; পেশায় ব্যবসায়ী। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তার নামে মামলা রয়েছে ৫৩টি। এরমধ্যে চলমান সাতটি, খালাস পেয়েছেন ১২টিতে। অব্যাহতি পেয়েছেন ১৯টিতে। ১২টি মামলায় অব্যাহতির জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত। তিনটি মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট নামঞ্জুর। সব মামলা রাজনৈতিক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

অমিতের বার্ষিক আয় ৯২ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৭ টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাতে দুই লাখ ৩৯ হাজার ২০০ টাকা, বাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি থেকে ৩৯ লাখ ১১ হাজার ২২৫ টাকা, ব্যবসায় এক লাখ ১ হাজার ৭২৮ টাকা, ব্যাংক, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ৩৭ লাখ ৯৯ হাজার ৮৪৪ টাকা, অন্যান্য উৎস থেকে আয় দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা।

তার অস্থাবর সম্পদ ১১ কোটি ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯৯৮ টাকা মূল্যের। এরমধ্যে নগদ তিন লাখ ৬৬ হাজার ৫১১ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা দুই কোটি ২৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৪৮ টাকা, শেয়ার, বন্ড ‌এক কোটি ৪৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯ টাকা। ইউনিভার্সেল এন্টারপ্রাইজের অংশীদার কারবার মূলধন বিনিয়োগ ৬৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬১৩ টাকা, সঞ্চয়পত্র স্থায়ী আমানত তিন কোটি ১২ লাখ ৪৪ হাজার ১৫২ টাকা।

ডিপিএস দুই কোটি ৯০ লাখ ৯৪ হাজার ৯১১ টাকা। বিমা ও ট্রাস্টের মূল্য ২৭ লাখ ৭১ হাজার ২৭৪ টাকা। ইলেকট্রনিক ও আসবাবপত্র ছয় লাখ ৫০ হাজার টাকার। অন্যান্য ৬৩ লাখ টাকা। ৯০ ভরি সোনা ও মূল্যবান ধাতুর গহনা উপহার পেয়েছেন অমিত।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের স্থাবর সম্পদ এক কোটি ২৮ লাখ ৫ হাজার ৮০৮ টাকা মূল্যের। এরমধ্যে ৫৬ লাখ ৮০ হাজার ৮৩৮ টাকার কৃষিজমি। সাত লাখ ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের জমিসহ বাড়ি, ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের তিন দশমিক ৮২ শতক জমি, ঢাকার মগবাজারে ১৭ লাখ টাকা মূল্যের শূন্য দশমিক ০৯ একর জমি, যশোরের বালিয়াডাঙ্গায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের সাত শতক জমি।

দোকান ভাড়ার অগ্রিম, জরুরি প্রয়োজনে দায়-দেনা চার কোটি ৫৭ লাখ ৪২ হাজার ৭৫০ টাকা রয়েছে বিএনপির এই প্রার্থীর।

অমিতের স্ত্রী সোহানা পারভীনের পেশা ব্যবসা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার বার্ষিক আয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তার মোট অস্থাবর সম্পদ তিন কোটি ৩৪ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৮ টাকার। এরমধ্যে নগদ এক লাখ ৮৬ হাজার ৭৭১ টাকা। সঞ্চয়পত্র আমানত এক কোটি ৩৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩২ টাকা। ডিপিএস ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৭ টাকা, যানবাহন ২৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা, সোনাসহ অন্যান্য ধাতু এক লাখ ৫০ হাজার ১ টাকার। ইলেকট্রনিক ও আসবাবপত্র তিন লাখ ৫০ হাজার টাকার।

তার স্থাবর সম্পদ রয়েছে এক কোটি ৫৯ লাখ ৫১ হাজার ৮২১ টাকা মূল্যের। এরমধ্যে এক লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকার কৃষিজমি, বনানী আবাসিক এলাকায় এক কোটি ৩৫ লাখ ৯ হাজার ৩২১ টাকা মূল্যের ২৬৮৮ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, বসুন্ধরা দক্ষিণ আবাসিক এলাকায় অগ্রিম হিসেবে দেওয়া ৫৪ লাখ মূল্যের ৭২০০বর্গফুটের প্লট।

কাদেরের সম্পদ বেশি, আয় কম

এমএ পাস আবদুল কাদের (৬২) পেশায় ব্যবসায়ী। তার নামে কোনো মামলা নেই। তার বার্ষিক আয় ১৪ লাখ ৫৩ হাজার ৮৩৮ টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাতে আয় পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৮০০ টাকা। ব্যবসায় আয় ছয় লাখ ৩০ হাজার টাকা, শেয়ার সঞ্চয় ব্যাংক আমানত আয় দুই লাখ ৩৫ হাজার ৩৮ টাকা।

কাদেরের ৯ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এরমধ্যে নগদ ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার ৪২৩ টাকা, শেয়ার, বন্ড মূল্য এক কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র এক কোটি টাকার। আরও রয়েছে ১৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা মূল্যের প্রাইভেটকার, দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ২২ ভরি সোনা, দুই লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য, এক লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র, ৫০ হাজার টাকা মূল্যের পিস্তল ও ১২০ দশমিক ৪১ শতাংশ জমি।

নিজ নামে ১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এরমধ্যে ২৮ লাখ ৮৯ হাজার ১০৮ টাকা মূল্যের ১৫৭ দশমিক ৫৮ শতক কৃষিজমি, এক কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ২১ লাখ ৪১ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের একটি আবাসিক ভবন ও ৩৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি অ্যাপর্টমেন্ট। তার ব্যাংক ঋণ ও জমি বিক্রি বাবদ অগ্রিম গ্রহণ ৮১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৮ টাকা।

স্ত্রী সাবেকুন নাহার জেসমিনের পেশা ব্যবসা উল্লেখ করা হলেও আয়ের উৎস নেই। তার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তিন কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার। এরমধ্যে নগদ আছে ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭৩ টাকা, শেয়ার, বন্ড মূল্য এক কোটি টাকার, সঞ্চয়পত্র দুই কোটি টাকার, ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্য ৪৩ টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র তিন লাখ ৭০ হাজার টাকার। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে ৮৬ লাখ টাকা মূল্যের ৪৩ শতক কৃষি জমি রয়েছে।

মিলন রহমান/এসআর/জেআইএম