ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ

নওগাঁয় পরীক্ষার্থী-প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্যসহ গ্রেফতার ১৮

জেলা প্রতিনিধি | নওগাঁ | প্রকাশিত: ০৩:৩৩ পিএম, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

নওগাঁয় পৃথক অভিযানে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ১১টি মোবাইল ফোন, আধুনিক ডিভাইসসহ নগদ ৩৭ হাজার ৯৪৮ টাকা উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এনএসআই, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দিনভর যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে রাত ৮টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেফতারদের মধ্যে প্রশ্নফাঁস চক্রের দুই প্রতারক হলেন, জেলার মহাদেবপুর উপজেলার জিওলি গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে আহসান হাবিব (৪০) এবং পত্নীতলা উপজেলার শিবপুর গ্রামের সালেহ উদ্দিনের ছেলে মামুনুর রশিদ (৪১)।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আসে একজন প্রতারক কিছু পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে নওগাঁ শহরে অবস্থিত পোরশা রেস্টহাউজ নামক একটি আবাসিক হোটেলে পরীক্ষার্থীসহ অবস্থান করছে। খবর পেয়ে জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল সেই হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চালিয়ে হোটেল থেকে প্রতারক আহসান হাবিব, তার সহযোগী প্রতারক মামুনুর রশিদ এবং পরীক্ষার্থী হাবিবুর এবং তার পিতা ফারাজুলকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে প্রতারক আহসান হাবিবের মোবাইল ফোনের হোয়াটসআপে পরীক্ষার নমুনা প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়।

ওই হোটেলের অন্যান্য রুমে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী আতাউর রহমান, ফারুক হোসেন ও হাবিবুর রহমানকে আটক করা হয় এবং তাদের মোবাইল ফোনেও পরীক্ষার ভূয়া প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। অপর আরেকটি কক্ষ থেকে পরীক্ষার্থী সারোয়ার এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী আবু সাঈদকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারক আহসান হাবিব জানান, তিনি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা নিবেন মর্মে চুক্তি করেন। সে চুক্তি মোতাবেক পরীক্ষার্থী আতাউর রহমান ও ফারুকের কাছ থেকে এক লাখ করে মোট দুই লাখ টাকা নেন এবং পরীক্ষার্থী হাবিবুরের বাবা ফারাজুলের কাছ থেকে অগ্রীম ৩০ হাজার টাকা নেন।

তিনি আরও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের হোটেল নীলসাগরে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী রেহান জান্নাতকে আটক করা হয়। তার মোবাইল ফোনেও ভুয়া প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, তার দুলাভাই (স্বামীর খালাতো বোনের স্বামী) মোহাম্মদ সাজ্জাদুল হক শালু তাকে ৬ লাখ টাকার মৌখিক চুক্তিতে লিখত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেন।

এছাড়া মহাদেবপুরে একজনকে এবং শহরের বিভিন্ন কেন্দ্রে অসৎ উপায় অবলম্বন করে আধুনিক ডিভাইসের সাহায্যে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে সদর থানা পুলিশ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আটজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মুশফিকুর রহমান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি ডিবি) হাবিবুল্লাহ হাবিব, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নিয়ামুল হকসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরমান হোসেন রুমন/এমএন/এএসএম/এফএ