ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঘন কুয়াশায় মরে যাচ্ছে ধানের চারা, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

জেলা প্রতিনিধি | ভোলা | প্রকাশিত: ০৩:৪৯ পিএম, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

ভোলায় গত কয়েকদিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ বইছে। ঘন কুয়াশার সঙ্গে তীব্র শীত পড়ছে। এমন বৈরী আবহাওয়ায় চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বোরো বীজতলা। লাল, হলুদ ও সাদা বর্ণ ধারণ করে ধানের চারা মরে যাচ্ছে। ফলে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকদিন পরেই ধানের চারা পরিপূর্ণ হলে শুরু হবে বোরো আবাদ। কিন্তু ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত কৃষকদের সেই স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধানের চারা মরে যাচ্ছে।

ঘন কুয়াশায় মরে যাচ্ছে ধানের চারা, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

জেলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম জয়নগর গ্রামের কৃষক সাইদুল রহমান ও মো. ইসমাইল জানান, তারা দুজনই পৃথকভাবে ১৬ শতাংশ জমিতে বোরো বীজতলা করেছেন। কিন্তু গত কয়েক দিনের ঘনকুয়াশা ও তীব্র শীতে তাদের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চারাগুলো লাল, হলুদ ও সাদা বর্ণ ধারণ করে মরে যাচ্ছে।

একই গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ জানান, তিনি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বীজতলা করেছেন। প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় দুইবার তার বীজতলা নষ্ট হয়েছে। নতুন করে ৫-৬ দিন আগে আবারও তৃতীয়বারের মতো বীজতলা করেছেন। এবারও যদি বীজতলা নষ্ট হয়েছে যা তাহলে ঋণের টাকা পরিশোধ করার মতো তার সামর্থ্য থাকবে না।

ঘন কুয়াশায় মরে যাচ্ছে ধানের চারা, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

সদর উপজলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের কৃষক আনিছ ফরাজী ও মো. সবুজ বলেন, এভাবে বীজতলা নষ্ট হলে ধানের চারার সংকট দেখা দেবে। এতে আবাদ ব্যাহত হবে। চারা সংকটের কারণে অনেক মাঠ খালি পড়ে থাকবে।

ঘন কুয়াশায় মরে যাচ্ছে ধানের চারা, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

এ বিষয়ে ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খায়রুল ইসলাম মল্লিক বলেন, সারাদেশের মতো ভোলায়ও শৈত্যপ্রবাহ চলছে। বর্তমানে আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনো কৃষকের বোরো বীজতলা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাদের মাঠে বীজতলা রয়েছে, সেগুলো ক্ষতি থেকে রক্ষায় রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা এবং কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ঘন কুয়াশায় মরে যাচ্ছে ধানের চারা, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

তিনি আরও জানান, এবছর ভোলার সাত উপজেলায় তিন হাজার ৯০৫ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখন পর্যন্ত তিন হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছে।

জুয়েল সাহা বিকাশ/এসআর/এএসএম