ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌরুটে পরিবহন সঙ্কটে যাত্রীরা

প্রকাশিত: ০৬:৪৬ এএম, ০১ জুলাই ২০১৬

ঈদ আসতে আরো এক সপ্তাহ বাকি। আজ থেকেই শুরু হয়েছে সরকারি ছুটি। আর তার প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম নৌরুট মাদারীপুর জেলার শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাটে। সকাল থেকেই তাই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।

শুক্রবার সকালে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন সঙ্কট দেখা দিয়েছে শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাটে। দক্ষিণাঞ্চল থেকে যাত্রী নেয়ার উদ্দেশ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক পরিবহন কাওড়াকান্দি ঘাটে এসে পৌঁছাতে না পারায় সকাল থেকেই যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গন্তব্যে ফিরতে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। এদিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাঁচ্চর থেকে বাখরেরকান্দি পর্যন্ত লেগেছে তীব্র যানজট।

লঞ্চ, স্পিডবোট, ফেরিতে যাত্রীদের ভীড় ছিল লক্ষণীয়। কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে পরিবহনশূণ্য ফেরি শিমুলিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলেও শিমুলিয়া ঘাট থেকে পরিবহন ও যাত্রী বোঝাই হয়েই শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাটে এসে ভিড়ছে। ঘাট থেকে দূর পাল্লার বাস-মাইক্রেবাসসহ বিভিন্ন পরিবহনে গন্তব্যে ছুটে যাচ্ছেন ঘরমুখো যাত্রীরা।

বিআইডব্লিউটিসির কাওড়াকান্দি ঘাট সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ঢল নেমেছে শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাটে। সকালে হঠাৎ করেই যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ও পর্যাপ্ত সংখ্যক পরিবহন এসে ঘাটে পৌঁছাতে না পারায় ঘাট এলাকায় দুর্ভোগে পরেছে ঘরমুখো যাত্রীরা। বর্তমানে নৌরুটে ৪টি রোরো ফেরিসহ ১৭ টি ফেরি, ৮৭ টি লঞ্চ, দুই শতাধিক স্পিডবোট চলাচল করছে।

সূত্র আরো জানায়, ঈদে কাওড়াকান্দি নৌরুটে যাত্রী পারপারে জন্য লঞ্চগুলোকে রংচং করা চলাচল উপযোগী করে তোলা হয়েছে। আসন্ন ঈদে শিমুলিয়া-মাওয়া নৌ-রুটে ৮৬ টি লঞ্চ, ১৭টি ছোট-বড় ফেরি ও স্পিডবোট দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের সেবায় রাখা হয়েছে।

Karakandi

তবে ফেরি থেকে নামতেই যানবাহনগুলো পড়ে ঝক্কি ঝামেলায়। কাওড়াকান্দি ঘাটে তিনটি ফেরি ঘাটেই রয়েছে চরম অব্যস্থাপনা। প্রায় দেড় কিলোমিটার হেঁটে যাত্রীদের দূরপাল্লার গাড়িতে উঠতে হচ্ছে। মহা-সড়েকের উপর দাঁড় করিয়ে বেশ কয়েকটি কাটা সার্ভিসের পরিবহনে যাত্রী তোলা হচ্ছে। ঘাট এলাকা থেকে দূরপাল্লার প্রায় ১২টি জেলায় সরাসরি গাড়িতে যাত্রী চলাচল করছে। রাস্তার পাশেই মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড।

এছাড়াও দুটি যাত্রীবাহী বাসের কাউন্টার রাস্তার উপর। মাইক্রোবাস বিআরটিসি পরিবহনের নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড থাকলেও চালকরা রাস্তার উপর গাড়ি রেখেই যাত্রী তুলছে অহরহ। তাই ফেরি থেকে যানবাহন নামার পর শুরু হয় যানজট। নতুন করে ডিভাইডার দিয়ে দেয়া হয়েছে। বাখরেরকান্দি বাইপাস সড়ক দিয়ে গাড়ি আসা যাওয়া করতে হচ্ছে। ওই মোড়ে প্রায় ৫/৬দিন ধরে আটকে আছে প্রায় ২শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক। আটকে পড়া পণ্যবাহী ট্রাকের কারণে মহাসড়কের এক পাশ আটকে রয়েছে।
 
পাঁচ্চর নাঈম ফিলিং স্টেশনের কাছে পদ্মা সেতুর এপ্রোজ সড়কের সংযোগ স্থলটি এখনো সংস্কার করা হচ্ছে। এখানের তীব্র যানজটের আশঙ্কা করছেন চালকরা। এছাড়া পাঁচ্চর মোড়ে সোনার বাংলা প্লাজার সামনে মহাসড়কের উপর যত্রতত্র নসিমন- করিমন ও ইঞ্জিন চালিত ভ্যান এবং স্কুটার রাখা থাকে সর্বক্ষণ। এছাড়া শিবচর সংযোগ সড়ক হওয়ার কারণে ওই এলাকাতেও  তীব্র যানজটের আশঙ্কা চালকদের।  

এদিকে ঘাটে ঘরমুখো যাত্রীদের নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নৌযানসহ পরিবহনের অতিরিক্ত যাত্রী এবং বাড়তি ভাড়াসহ যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে বলে জানা গেছে।
 
পরিবহন সঙ্কটের বিষয় নিয়ে কাওড়াকান্দি ঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক উত্তম কুমার শর্মা বলেন, সকালে হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক যাত্রী এসে পড়ায় পরিবহন সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সকালে দক্ষিণাঞ্চল থেকে পর্যাপ্ত পরিবহনগুলো ঘাটে এসে পৌঁছাতে না পারায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এফএ/পিআর