ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

প্রবীণ সাংবাদিক রফিকুল আলম খান আর নেই

জেলা প্রতিনিধি | সিরাজগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৫:৪১ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

সিরাজগঞ্জে প্রবীণ সাংবাদিক রফিকুল আলম মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার ডুমুর গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেছেন

রফিকুল আলম খান দীর্ঘদিন দৈনিক আমার দেশ, দৈনিক প্রথম আলো, বাংলাদেশ বেতার, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক আজাদ, দৈনিক বাংলা ও দৈনিক বার্তাসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জেলা প্রতিনিধি ও নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রফিকুল আলম খান ১৯৪৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ডুমুর বড়বাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম এলাহি বখশ তৎকালীন বিশিষ্ট আইনজীবী ছিলেন। তার মাতা মরহুমা ওয়াজেদা খানম। তিনি গ্রামের পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ১৯৫৬ সালে সিরাজগঞ্জ শহরের ভিক্টোরিয়া হাইস্কুলে ভর্তি হয়ে ১৯৬১ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরে ১৯৬৫ সালে সিরাজগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বিএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন।

পারিবারিক জীবনে তার স্ত্রী উম্মে সালমা একজন গৃহিণী। দুই মেয়ে ও এক সন্তানের জনক ছিলেন তিনি। বড় মেয়ে রাফিয়া সুলতানা সুমনা লন্ডন প্রবাসী। তিনি লন্ডনে বেসরকারি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে কর্মরত রয়েছেন। ছোট মেয়ে শারমিন সুলতানা শারমিন। একমাত্র ছেলে মাহমুদুল আলম জগন্নাথ বিশ্বদ্যিালয়ের ছাত্র ছিলেন। ২০১৩ সালের দিকে দিনাজপুরে তাবলীগ জামায়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়।

রফিকুল আলম খান ছাত্রজীবন থেকে লেখালেখি করতেন। ১৯৬৫ সালে দৈনিক সংবাদ পত্রিকার নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেন। পরে ১৯৬৮ সালে প্রাচীনতম কাগজ দৈনিক আজাদ এর নিজস্ব সংবাদদাতা নিযুক্ত হন। ১৯৭৪ সালে দৈনিক আজাদ বন্ধ হয়ে গেলে তার সাংবাদিকতায় ছেদ পড়ে। পরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক বার্তার নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর ১৯৮২ সালে রফিকুল আলম খান দৈনিক বাংলায় যোগদেন। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক প্রথম আলো বের হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানকালী সময়ে দৈনিক প্রথম আলো’র জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত হন। পরে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ বেতারের সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা হিসেবে কাজ শুরু করেন।

সাংবাদিকতা জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে রফিকুল আলম খান ১৯৭২ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক কিষাণ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব নেন। সেখানে সুনামের সঙ্গে ৩ বছর দায়িত্ব পালন করে সাপ্তাহিক সমযুগ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন।

পরে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির বৃহত্তর পাবনার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবেও সাংবাদিকদের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

সাংবাদিকতা ও সাহিত্যাঙ্গনে বিশেষ অবদান রাখায় রফিকুল আলম খানকে ১৯৭৩ সালে যমুনা সাহিত্য গোষ্ঠী সাহিত্যরত্ম উপাধিও প্রদান করেন। ২০১৫ সালে সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদান রাখায় ‘সাহসী জনতা গুণীজন পদক-২০০৫’, আমাদের সময় স্মারক সম্মাননা ও বাংলাদেশ বেতার সম্মাননা পদকে ভূষিত হন।

এম এ মালেক/আরএইচ/এমএস