ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

রাজবাড়ী

এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ আলট্রাসনোগ্রাম, ভোগান্তিতে রোগীরা

জেলা প্রতিনিধি | রাজবাড়ী | প্রকাশিত: ০২:৫১ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

টেকনোলজিস্ট না থাকায় এক বছরের বেশি সময় বন্ধ রয়েছে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের আলট্রাসনোগ্রাম সেবা। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আসা শতশত গর্ভবতী নারীসহ দরিদ্র রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত এ সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনদের।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সেবা বন্ধ থাকার সুযোগে হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি দালাল চক্র। তারা গ্রামের সহজ-সরল রোগীদের ফুসলিয়ে নিম্নমানের বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছে এবং কমিশনের বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।

এদিকে হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রামের মেশিনারি থাকলেও সোনোলজিস্ট না থাকার কারণে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষটি। এখানে ১১০-২২০ টাকায় এই পরীক্ষা করার সুযোগ থাকলেও দীর্ঘদিন সেবাটি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন।

সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, চিকিৎসকরা রোগীদের আলট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দিচ্ছেন, কিন্তু হাসপাতালের নির্দিষ্ট বিভাগে গিয়ে রোগীরা জানতে পারেন সেবাটি বন্ধ। বাধ্য হয়ে তাদের ছুটতে হচ্ছে শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে সরকারি রেটের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা (৫০০ থেকে ৮০০ টাকা) খরচ করে এই পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বন্ধ আলট্রাসনোগ্রাম সেবা কার্যক্রম। এর আগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের দিয়ে এই সেবা দেওয়া হতো। বর্তমানে গাইনি ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০-২৫০ জন রোগী এই সেবা নিতে আসছেন।

এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ আলট্রাসনোগ্রাম, ভোগান্তিতে রোগীরা

বালিয়াকান্দি থেকে আসা মনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা গরিব মানুষ, তাই সরকারি হাসপাতালে আসি। কিন্তু এখানে এসে শুনি এক বছর ধরে আলট্রাসনোগ্রাম হয় না। বাইরের ক্লিনিকে টেস্ট করানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। তারপরও বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে বাইরে থেকে টেস্ট করাতে হচ্ছে।

জাহিদ মিয়া নামে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, সদর হাসপাতাল নিজেই এখন অসুস্থ। এখানে ডাক্তার নাই, ওষুধ নাই, চিকিৎসা নাই। এক কথায় এখানে কিছুই নাই। কিন্তু আমরা ভরসা করে এসে ফিরে যাই। আমার স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর পর আলট্রাসনোগ্রাম করতে বলেছে। কিন্তু হাসপাতালে করতে না পেরে বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে যেমন বাড়ছে দুর্ভোগ, তেমনি গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এটির সমাধান করা প্রয়োজন।

সুরঞ্জিত দাস বলেন, শুনেছি হাসপাতালের আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন অনেক ভালো, কিন্তু ব্যবহার না থাকায় কাজে আসছে না। দীর্ঘদিন সেটি বন্ধ। এভাবে বন্ধ থাকলে তো মেশিনেরও সমস্যা হবে। তাই দ্রুত ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে আলট্রাসনোগ্রাম চালু করার অনুরোধ করছি।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ হান্নান বলেন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও সংশ্লিষ্ট পদে রেডিওলজিস্ট (বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক) না থাকার কারণেই মূলত আলট্রাসনোগ্রাম বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পদে চিকিৎসক পেলেই কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

রুবেলুর রহমান/এমএন/জেআইএম