মিরসরাইয়ে দেড় বছর ধরে বন্ধ মা ও শিশু কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ
মিরসরাইয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে হিঙ্গুলী মা ও শিশু কেন্দ্রের ভবনের নির্মাণকাজ। ফলে ব্যাহত হচ্ছে প্রসূতি সেবা। তাই দ্রুত ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি স্থানীয়দের।
হিঙ্গুলী ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিন শতাধিক মা ও শিশু রোগী আসেন এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সবাই স্বাভাবিক সেবা পাচ্ছেন। তবে বিপত্তি হয় তখনি যখন অফিস সময়ের পর পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মৌসুমি বড়ূয়া বাসায় চলে যান। কোন মায়ের যদি অফিস সময়ের বাইরে প্রসব বেদনা উঠে তখন এমএলএস এস বা সহকারির তত্বাবধানে বাসা থেকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসে সেবা দিতে হয়। আবার দায়িত্ব পালন শেষে তাদের সহযোগিতায় বাসায় পৌঁছাতে হয়। অথচ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সীমানার মধ্যে নির্মাণাধীন ভবনের কাজ শেষ হবার কথা আরও দেড় বছর আগে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ঠিকাদার গা ঢাকা দেওয়ার পর অর্ধনির্মিত ৩ তলা আবাসিক ভবনটির আস্তরণ আর দরজা জানালা লাগালে সেখানে বসবাস করতে পারতো ভিজিটর ও সহকারি।
এই বিষয়ে এফডব্লিউবি’র পরিদর্শিকা মৌসুমী বড়ূয়া বলেন, আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায়ই বাসা থেকে এসে কোন মা রাতে এলেও সেবা দিতে হয়। নির্মাণাধীন ভবনটি থাকার উপযোগী হলে আর কষ্ট হতো না।
তিনি জানান, হিঙ্গুলী এলাকাটি উপজেলার বৃহত্তম জনবহুল এলাকার এই মাতৃসেবা কেন্দ্র। কোন নৈশপ্রহারী নেই, আয়া নেই। ৪ জন পরিদর্শিকার পদ থাকলেও তিনটি শূন্য।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. শিরিনা আক্তার রুহিনা বলেন, এই ১০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ২০২২ সালে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। সব সুব্যবস্থা করা হলে ও আবাসিক সমস্যার কারণেই আমাদের সেবা দিতে বেশী বিঘ্ন ঘটে।
তিনি আরও বলেন, বিসিএস’র পর আমার প্রথম পোষ্টিং এই হাসপাতালে। তখন থেকে কোন আয়া নেই এখানে। পরিদর্শিকার সহকারিসহ আমাদের নিজেদেরও অনেক সময় পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে হয়। ১০ জনের পদ থাকলেও মাত্র তিনজন দিয়ে সেবা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এই বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অমিত মোদক বলেন, হিঙ্গুলী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আয়া সংকট ও আবাসিক ব্যবস্থার জন্য কয়েকবার জেলাকে চিঠি দিয়েছি।
জেলা থেকে সম্প্রতি জানা গেছে, আগের ঠিকাদার কাজ না করার কারণে নতুন ঠিকাদারকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। নতুন ঠিকাদার খুব শিগগিনর কাজ শুরু করবেন।
এম মাঈন উদ্দিন/এনএইচআর/জেআইএম