ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সিন্ডিকেটের বাধায় দুই দফা অ্যাম্বুলেন্স আটকা, পথেই মারা গেল রোগী

জেলা প্রতিনিধি | শরীয়তপুর | প্রকাশিত: ০৮:৪৮ এএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

শরীয়তপুরে ঢাকাগামী একটি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স দুই দফা আটকে রাখায় জমশেদ আলী ঢালী (৭০) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকায় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

জমশেদ আলী ঢালী ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা। এর আগে গত বছরের ১৪ আগস্ট একইভাবে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট একটি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় অসুস্থ অবস্থায় এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

রোগীর স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার জমশেদ আলী ঢালীকে অসুস্থ অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। তবে সেখানে তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। এরপর স্বজনরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় একটি অ্যাম্বুলেন্স সাড়ে ছয় হাজার টাকায় ভাড়া করলে রোগী ওঠানোর পর আরও বেশি ভাড়া দাবি করেন চালক। পরে রোগীর স্বজনরা অন্য আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। ঢাকা যাওয়ার পথে গাগ্রীজোড়া এলাকায় গাড়িটির গতিরোধ করেন স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সিন্ডিকেটের সুমন, মানিক ও চালক পারভেজ এবং সজীবসহ অন্তত ৭-৮ জন। এসময় অন্তত আধা ঘণ্টা বাগবিতণ্ডা হলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সটি ছেড়ে দেন তারা।

এরপর চালক অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ে পুনরায় ঢাকা যাওয়ার জন্য রওনা হলে পথিমধ্যে জামতলা এলাকায় আবারো তাদের গতিরোধ করে রোগীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে। দীর্ঘ ৪০ মিনিট পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাড়িটি ছেড়ে দিলে পথিমধ্যেই রোগী মারা যান। পরে বিকেল তিনটার দিকে ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

রোগীর নাতি জোবায়ের হোসেন রোমান বলেন, আমার নানাকে হাসপাতালে ভর্তি করালে ডাক্তার জানান তাকে জরুরি ঢাকায় নিতে হবে। তারপর আমরা হাসপাতালের ভেতর থেকে একটা অ্যাম্বুলেন্স সাড়ে ছয় হাজার টাকায় ভাড়া করে নানাকে ওঠাই। তবে তারা আরও বেশি ভাড়া দাবি করে। আমাদের কাছে বেশি টাকা না থাকায় তাদের অ্যাম্বুলেন্স থেকে নানাকে নামিয়ে এলাকার একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করে রওনা করি। পথে দুই বার স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালক ও তাদের লোকজন আমাদের অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখে। তাদের কারণে নানাকে ঢাকায় নিতে দেরি হয়েছে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার জানান আমার নানা বেঁচে নেই। আমরা ওদের বিচার চাই।

অ্যাম্বুলেন্স চালক সালমান বলেন, স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালকরা ভাড়া বাড়িয়ে ৭ হাজার টাকা চেয়েছিল। আমি পাঁচ হাজার টাকায় রাজি হয়ে রোগী নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। পথে প্রথমে কোটাপাড়া ব্রিজ পার হলে কয়েকজন এসে আমার গাড়ির চাবি নিয়ে যায়। সেখানে ত্রিশ মিনিট আমাদের গাড়ি আটকে রেখে রোগীকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। তখন স্থানীয় লোকজন এলে তারা ছেড়ে দেয়। আবার যখন জামতলা এলাকায় পৌঁছাই তখন আবার তারা আমার গাড়ির গতিরোধ করে ৪০ মিনিট আটকে রাখে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনোমতে সেখানে থেকে ঢাকায় পৌঁছালে চিকিৎসক জানায় রোগী মারা গেছে।

এদিকে ঘটনার পর লাপাত্তা অভিযুক্ত ওই অ্যাম্বুলেন্স চালক সিন্ডিকেটের সদস্যরা।

তবে বিষয়টি নিয়ে শরীয়তপুর জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, যারা এ ধরনের কাজ করেছে, তাদের কোনো ছাড় নেই। তাদের কঠিন বিচার করা হোক। আমি কখনোই কাউকে বলিনি তোমরা জোর করে রোগী নিয়ে যাও বা গাড়ি আটকাও। আমাদের হাসপাতাল থেকে ছয় হাজার টাকায় গাড়ি ফিক্সড ভাড়া করে দেওয়া হয়েছে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার হওয়া দরকার।

এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, রোগীর একজন লোক এসে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। আমি তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিধান মজুমদার অনি/এফএ/এমএস