রাজশাহীতে এলপিজি সংকটে বন্ধ হচ্ছে হোটেল-রেস্তোরাঁ
রাজশাহী নগরী ও আশপাশের এলাকায় এলপিজি গ্যাসের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। গৃহস্থালি থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁ- সর্বত্রই রান্নার জ্বালানির জন্য চলছে হাহাকার। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ চার ভাগের এক ভাগে নেমে আসায় একদিকে যেমন মিলছে না সিলিন্ডার, অন্যদিকে সুযোগ বুঝে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত দাম।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ খুচরা বিক্রেতার কাছে সিলিন্ডারের মজুত খুবই কম কিংবা একেবারেই নেই। কোথাও কোথাও পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
শালবাগান এলাকার গৃহিণী মাহমুদা খাতুন বলেন, এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরছি, কিন্তু কেউ বলতে পারছে না কবে স্বাভাবিক হবে। কোথাও গ্যাস পেলে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

ছোট হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকরা জানান, গ্যাসের সংকটে তাদের ব্যবসা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকেই জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সময় কমিয়ে দোকান খুলছেন কিংবা মেনু সীমিত করছেন।
সাহেব বাজার এলাকার হোটেল মালিক শাকিল হোসেন বলেন, প্রতিদিনের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা চালানো কঠিন হবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
খুচরা বিক্রেতারা সংকটের জন্য সরবরাহে অনিয়মকে দায়ী করছেন। নওদাপাড়া বাজার এলাকার গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা আবদুস সালাম বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরেই সরবরাহ অনিয়মিত। চাহিদার তুলনায় অনেক কম সিলিন্ডার পাচ্ছি। ক্রেতারা মনে করেন আমরা মজুত করছি, কিন্তু বাস্তবে আমাদের কাছে স্টক নেই।
হালিমা এজেন্সির ব্যবস্থাপক মো. পারভেজ জানান, আগে প্রতিদিনই গ্যাস সংগ্রহের জন্য গাড়ি পাঠানো হতো। এখন দুই-তিন দিন, কখনো চার দিন পর একটি ট্রাক আসে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম।

ওমেরা গ্যাসের পরিবেশক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, আগে যেখানে প্রতিদিন সরবরাহ মিলত, সেখানে এখন সপ্তাহে মাত্র দুই দিন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। আজ যে সিলিন্ডার পেয়েছি, সবই বিতরণ হয়ে গেছে। পরবর্তী সরবরাহ আসার কথা শুক্রবার।
এদিকে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেডের এক পরিবেশক জানান, সরবরাহ না থাকায় প্রায় এক মাস ধরে তাদের ডিপো বন্ধ রয়েছে।
রাজশাহী এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন কচি বলেন, রাজশাহীতে প্রতি দিন ৫০ হাজার গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা থাকে। তবে এক চার ভাগের এক ভাগই এখন সরবরাহ নেই।
তিনি বলেন, রাজশাহীতে ১৮টি কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ করে থাকে। তবে বর্তমানে এমবি, সান, যমুনা ও আই গ্যাস মিলে মোট ৪টি কোম্পানি সরবরাহ করছি। প্রতিদিনই আগে গ্যাস সরবরাহ হতো এখন সেটিও হচ্ছে না। ফলে সংকট থেকেই যাচ্ছে। কবে যে এটি কেটে যাবে সেটিও তারা বলতে পারছেন না।
সাখাওয়াত হোসেন/কেএইচকে/এএসএম
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ নারায়ণগঞ্জে সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতের দাবি জমিয়ত নেতার
- ২ বেনাপোল দিয়ে তিনদিনে সাড়ে ৪ হাজার পাসপোর্টধারী যাতায়াত
- ৩ নারায়ণগঞ্জ কর্তৃপক্ষ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ ব্যবসায়ীদের
- ৪ মাদারীপুর থেকে লুণ্ঠিত ৪৬২ গ্যাস সিলিন্ডার আশুলিয়ায় উদ্ধার
- ৫ স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার দিয়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন ছাত্রলীগ নেতা