ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলা

হাসিনা-কাদের-নিজাম হাজারীসহ ১৭১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

জেলা প্রতিনিধি | ফেনী | প্রকাশিত: ০৭:৪৩ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

ফেনীতে জুলাই আন্দোলনে কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ ১৭১ জনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হাসান অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।

এর মধ্যদিয়ে ফেনীতে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় করা ২২টি মামলার মধ্যে প্রথম কোনো মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করলেন আদালত।

বুধবার সকালে মামলার নির্ধারিত তারিখে শুনানি শেষে বিচারক আদেশের জন্য অপেক্ষমান রাখেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই ১৭১ জনের বিরুদ্ধে ফেনী সদর আমলি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মামলায় ১৫৬ জন এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতপরিচয় ৬৫ জনসহ ২২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এরমধ্যে তদন্তে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা না থাকায় ১০ জনকে অব্যহতি দেওয়া হয়। এরইমধ্যে ৫১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহির উদ্দিন মামুন বলেন, ‌‘২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে মাসুম হত্যাকাণ্ডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীকে সরাসরি নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মূলত পুলিশের বিভিন্ন তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তারাই অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এখানে কে কোন রাজনৈতিক দলের তা বিবেচনা করা হয়নি।’

২০২৪ বছরের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবির অসহযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ আগস্ট তিনি মারা যান।

মাসুম সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের তরাব পাটোয়ারী বাড়ির মৃত মাওলানা নোমান হাসানের ছেলে। তিনি ছাগলনাইয়া আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করেন।

এ ঘটনায় ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ১৬২ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এ মামলায় উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবির রতন, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম পিটু, জিয়া উদ্দিন বাবলু প্রমুখ।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এসআর/জেআইএম