ওসমানী হাসপাতালে মারামারি
রোগীর তিন স্বজন আদালতে, তদন্ত কমিটি গঠন
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মারামারির ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া রোগীর তিন স্বজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির।
এদিকে, হামলার ঘটনার পর থেকে শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসকরা নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছেন। তবে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে মিড-লেভেল চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল প্রশাসন।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৬ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় এক নারীসহ তিনজনকে তাদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
আটকরা হলেন- সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), একই গ্রামের শিমুল আহমদের স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (২২) ও দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ মিয়া (২৬)।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে মারামারির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) ডা. মো. কামরুজ্জামান একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের না হওয়ায় আটক তিনজনকে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, কর্মবিরতি চলাকালে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন হাসপাতালের পরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছি। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাসহ এসব দাবি সমাধান হলে আমরা যে কোনো সময় কাজে ফিরে যেতে প্রস্তুত।
আন্দোলনে থাকা ইন্টার্ন চিকিৎসক মার্জিয়া আলম বলেন, দায়িত্বরত চিকিৎসককে সেবা দিতে হলে অনেক কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে হাসপাতালের। রোগীরা অনেক ক্ষেত্রেই সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন না। আমাদের নারী চিকিৎসককে হেনেস্তার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
ওসমানী হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম বলেন, হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা রাত থেকেই কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, হাসপাতাল এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আলাদা চিকিৎসক স্কোয়াড গঠন করে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পর থেকেই হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে। আশা করছি দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যাবে।
আহমেদ জামিল/এনএইচআর