ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জঙ্গি অর্থায়ন : আরাকান আর্মির ৩ সহযোগীর ব্যাংক হিসাব জব্দ

প্রকাশিত: ১২:২৭ পিএম, ০২ জুলাই ২০১৬

জঙ্গি ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজে অর্থায়নে জড়িত থাকার অভিযোগে আরাকান আর্মির আলোচিত নেতা ডা. রান উইন সোসহ সংগঠনটির তিন সহযোগীর ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

মিয়ানমারের এই বিদ্রোহী জঙ্গিগোষ্ঠীর তিন সদস্যের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এছাড়া তাদের হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি প্রোফাইল ফরম, হিসাব বিবরণী ও আনুষঙ্গিক কাগজপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ডা. রান উইন সো ও মংপ্রুচিং মারমার ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের চট্টগ্রামের দোভাষীবাজার শাখায় এবং চিংনু মারমার কৃষি ব্যাংকের রাঙ্গামাটি শাখায় খোলা ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এ তিনজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন- ২০০৯ এর ৬(১)/৭/১০/১৪ ধারায় ২০১৫ সালের ৮ আগস্ট রাঙামাটি পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় ওই তিন ব্যক্তি জঙ্গি ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজে অর্থায়নে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়।

জানা যায়, তাদের অর্থের উৎস সন্ধানে রাঙামাটি পুলিশের তরফ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেয়া হয়। পুলিশের চিঠির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যাংক তালাশ করে অভিযুক্ত তিনজনের ব্যাংক হিসাব খুঁজে বের করে।

ডা. রান উইন সো ও মংপ্রুচিং মারমা আরাকান আর্মির সদস্য এবং বর্তমানে তারা রাঙামাটি জেলা কারাগারে অন্তরীণ। চিংনু মারমা ডা. রান উইন সোয়ের স্ত্রী বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের দোভাষীবাজার শাখায় ডা. রান উইন সো ও মংপ্রুচিং মারমার যথাক্রমে ১২৪১-২২০০-০০৬৬৩৯ ও ১২৪১-২২০০-০১১০৯৮ নম্বরের হিসাব চালু আছে। এছাড়া চিংনু মারমা কৃষি ব্যাংকের রাজস্থলী শাখার মাধ্যমে লেনদেন করেন। যার হিসাব নম্বর-২৬৯৬। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে এদের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করতে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডা. রান উইন সো ও মং প্রু চিং মারমা এবং চিংনু মারমার হিসাবের মাধ্যমে জঙ্গি ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে অর্থায়ন করা হচ্ছে যা সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর ৬(১) (ক) (ই) ধারা মোতাবেক সন্ত্রাসী কার্য সংঘটনের অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত। এই হিসাবগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে অর্থায়ন করা হয়ে থাকলে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সেক্ষেত্রে হিসাবগুলোর হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি প্রোফাইল ফরম, হিসাব বিবরণী ও আনুষঙ্গিক কাগজপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া এ তিন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়।

এই বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, রাঙামাটি পুলিশের অনুরোধে আমরা চট্টগ্রামের কয়েকটি ব্যাংকে পরিদর্শন চালাই। এতে দেখা যায় ওই তিন ব্যক্তির ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকে হিসাব রয়েছে। আমরা ওইসব অ্যাকাউন্ট স্থগিত রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছি।

সুশীল প্রসাদ চাকমা/এমএএস/এবিএস