ভোট দিতে কেউ বাধা দিলে সে শেখ হাসিনা হয়ে যাবে: আসিফ নজরুল
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। নির্বাচনে যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেওয়া যাবে। কাউকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হবে না। আর যদি কেউ বাধা দেয়, তাহলে সে শেখ হাসিনা হয়ে যাবে। আমরা শেখ হাসিনা হতে চাই না।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘গণভোট বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব এ মন্তব্য করেন।
আসিফ নজরুল বলেন, অতীতে আয়নাঘর, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও গায়েবি মামলার মতো যে ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তা পরিবর্তনের জন্যই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণকে ভোট দিতে দেয়নি। কখনো রাতের ভোট, কখনো প্রতিদ্বন্দ্বীহীন একক নির্বাচন, আবার কখনো ডামি ও ভুয়া ভোটের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। এমনকি ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষকে দীর্ঘ ১৫ বছর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে নিজেদের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়েছে। জনগণের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং দেশকে অন্য দেশের কাছে বিক্রি করে অবৈধভাবে ক্ষমতা ভোগ করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অসীম আত্মত্যাগের ফলে দেশে পুনরায় ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।
এবারের নির্বাচনে দুটি ঐতিহাসিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে ড. আসিফ নজরুল বলেন, প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এবং প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে আইন উপদেষ্টা বলেন, বড় ধরনের সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করলেও জনগণের মতামত নেওয়া এখনো বাকি। জনগণের মতামত জানার জন্যই এই গণভোটের আয়োজন। এখানে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ দুটি ভোটের সুযোগ থাকবে। যারা সংস্কারের পক্ষে, তারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। আর যারা শেখ হাসিনার আমলের মতো বাংলাদেশ পরিচালিত হোক চান, তারা ‘না’ ভোট দেবেন।
বগুড়া জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এমএন/জেআইএম