ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঈদ উপলক্ষে খেলনা তৈরির ধুম পড়েছে

প্রকাশিত: ০৪:৫১ এএম, ০৩ জুলাই ২০১৬

ঈদকে সামনে রেখে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য সম্বলিত নানা প্রকার খেলনা তৈরির ধুম লেগেছে টাঙ্গাইলে। শিশুদের খেলনা তৈরিতে ব্যস্ত এর কারিগররা। অতি যত্ন সহকারে তারা তৈরি করছেন নানা রকমের খেলনা। এসব খেলনার মধ্যে রয়েছে কাঠের ক্যাড়ক্যাড়ি গাড়ি, একতারা, আলমিরা ও নানা ধরনের বাঁশি।

সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডের কাগমারা এলাকার তেঁতুল তলা গ্রামের একটি কারখানায় তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের খেলনা। কারখানাটিতে কারিগর রয়েছেন সাত জন। এরা এক সঙ্গে কাজ করছেন। হাতুড়ির ঠুকঠুক শব্দ আর শিল্পির নৈপূণ্যে তারা তৈরি করেছেন বাঁশ ও নারিকেলে খুলি দিয়ে শিশুদের বিভিন্ন খেলনা।

কারখানার কারিগর রহিম মিয়া জানান, প্রতি বছরই তারা এ ধরনের খেলনা তৈরি করেন। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি এই খেলনা তৈরির কারখানায় কাজ করেন। এ কাজে প্রতিদিন তিনশ টাকা পান। রমজান মাসই মূলত এ ব্যবসার সময় বলে জানান তিনি। বছরের অন্য সময় দিনমজুরের কাজ করেন। এ মাসে প্রায় পঞ্চাশ হাজার পিস বিভিন্ন ধরনের খেলনা তৈরি করেছেন বলেও জানান তিনি।

কাগমারা এলাকার খেলনা তৈরির কারখানার মালিক আজিজ মিয়ার জানান, এখনও গ্রামাঞ্চলের শিশুদের মাঝে কাঠ ও বাঁশের তৈরি খেলনার বেশ কদর রয়েছে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে তিনি এখনও এ পেশাকে ধরে রেখেছেন। জেলার মির্জাপুর পৌর এলাকায় ১টি ও পাকুল্লা ইউনিয়নের গুনুটিয়া গ্রামে ১টি এমন খেলনা তৈরির কারখানা রয়েছে তার।

তিনি প্রতি বছর রোজার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ ধরনের খেলনা প্রস্তুত করে জেলার প্রায় প্রতিটি হাট বাজারে বিক্রি করে থাকেন। বিভিন্ন গ্রামের হাট বাজারের বিক্রেতারা তার তৈরি খেলনা সংগ্রহ করে রাখেন। পরে ঈদের সময় এগুলো বিক্রি করেন।

এ ধরনের খেলনা মূলত বিক্রি হয় দুই ঈদ ও দূর্গা পুঁজাতে। এছাড়া গ্রামের মেলা গুলোতেও চলে এই হাতে তৈরু খেলনা। শহরের শিশুদের মধ্যে এ ধরনের খেলনার তেমন একটা চাহিদা না থাকলেও গ্রামের শিশুদের মধ্যে এর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। এ বছর প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের খেলনা তৈরি করেছেন বলেও জানান তিনি।
 
বাজারে নানা প্রকার আধুনিক খেলনার প্রচলোন বৃদ্ধি পাওয়ায় হাতে তৈরি খেলনার চাহিদা কমছে। ফলে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কারিগররা ভিন্ন পেশার দিকে ঝুকছেন। গ্রাম বাংলার পুরাতন এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সরকারসহ বিভিন্ন সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এফএ/আরআইপি