ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ময়মনসিংহের ১১ আসনে লড়ছেন ৬৭ প্রার্থী, বিএনপির ‘কাঁটা’ বিদ্রোহী

জেলা প্রতিনিধি | ময়মনসিংহ | প্রকাশিত: ১০:৩৪ এএম, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে ময়মনসিংহের রাজনীতির ময়দান। জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত লড়াইয়ে নেমেছেন ৬৭ জন প্রার্থী। তবে এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ দলেরই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা। ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতেই বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়ছেন শক্তিশালী বিদ্রোহী নেতারা।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই শুরু হয়েছে ভোটের চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ। এদিন জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের প্রতীক ধানের শীষ। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীকে লড়বেন উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সালমান ওমর রুবেল। এই আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. তাজুল ইসলামের প্রতীক রিকশা। এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মনোনীত কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুর রাজ্জাক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. জিল্লুর রহমান।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারের প্রতীক ধানের শীষ। এই নেতার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাবেক এমপি ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে দল থেকে বহিষ্কার হওয়া শাহ শহীদ সারোয়ার। তিনি লড়বেন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে। এই আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহর প্রতীক রিকশা। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী গোলাম মাওলা ভূঁইয়া, কলস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক, জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের প্রার্থী মো. এমদাদুল হক খান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মনোনীত একতারা প্রতীকের প্রার্থী মো. জুলহাস উদ্দিন শেখ।

ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুরে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী এম ইকবাল হোসেইন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সদ্য সাবেক আহ্বায়ক আহম্মদ তায়েবুর রহমান হিরনের প্রতীক ঘোড়া। এছাড়া এই আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী এ কে এম আরিফুল হাসান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মনোনীত বই প্রতীকের প্রার্থী মো. আবু তাহের খান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. শরিফুল ইসলাম।

ময়মনসিংহের ১১ আসনে লড়ছেন ৬৭ প্রার্থী, বিএনপির ‘কাঁটা’ বিদ্রোহী

ময়মনসিংহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দের ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন। এই নেতার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ কামরুল আহসান এমরুল। তিনি লড়বেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে। একই আসনে জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে লড়বেন আবু মো. মূসা সরকার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মনোনীত কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী এমদাদুল হক মিল্লাত, গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত মাথাল প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মনোনীত একতারা প্রতীকের প্রার্থী মো. লিয়াকত আলী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মনোনীত আম প্রতীকের প্রার্থী মো. হামিদুল ইসলাম ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী শেখর কুমার রায়।

ময়মনসিংহ-৫ মুক্তাগাছা আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলুর প্রতিদ্বন্দ্বী ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত মাথাল প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি) মনোনীত ঈগল প্রতীকের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম।

ময়মনসিংহ-৬ ফুলবাড়িয়া আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আখতারুল আলম ফারুকের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মু. কামরুল আহসান মিলন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীকে লড়বেন দল থেকে বহিষ্কৃত সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক জসিম উদ্দিন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার শামসউদ্দিনের স্ত্রী আখতার সুলতানা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. নুরে আলম সিদ্দিকী।

ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলে মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাত। তার নির্বাচনি প্রতীক কাপ-পিরিচ। এছাড়া এই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আছাদুজ্জামান সোহেল, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ, জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙল প্রতীকের প্রার্থী মো. জহিরুল ইসলাম ও মোটর সাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন।

ময়মনসিংহ-৮ ঈশ্বরগঞ্জ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর প্রতিদ্বন্দ্বী সদ্য বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ইসলামি আন্দোলনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাবেক সংসদ সদস্য শাহ নুরুল কবির শাহিন। তার নির্বাচনি প্রতীক হাতপাখা। এই আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এলডিপির অ্যাডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল ছাতা প্রতীকে লড়বেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙল প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম।

ময়মনসিংহ-৯ নান্দাইল আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইয়াসির খান চৌধুরীর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্যের স্ত্রী হাসিনা খান চৌধুরী। তিনি লড়বেন হাঁস প্রতীকে। এছাড়া এই আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির অ্যাডভোকেট একে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন ফুলকপি প্রতীকে লড়বেন। এছাড়া গণফোরাম মনোনীত উদীয়মান সূর্য প্রতীকের প্রার্থী মো. লতিফুল বারী হামিম, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. সাইদুর রহমান ও জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙল প্রতীকের প্রার্থী হাসমত মাহমুদ।

ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর সঙ্গে হাঁস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান। এছাড়া একই আসনে এলডিপির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মাহমুদ মোর্শেদ ছাতা প্রতীকে লড়বেন। এই আসনটি জোটগতভাবে উন্মুক্ত থাকায় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. ইসমাঈলও লড়বেন। এছাড়া গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত হাঁস প্রতীকের প্রার্থী এ,কে,এম শামসুল আলম, জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙল প্রতীকের প্রার্থী মো. আল আমিন সোহান, ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মতিউর রহমান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী মো. সাইফুল সালেহীন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. হাবিবুল্লাহ বেলালী।

ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে হরিণ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুর্শেদ আলম। এখানে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকে ডা.জাহিদুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. মোস্তফা কামাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ময়মনসিংহের ১১টি সংসদীয় আসনে ১৯ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। এতে এসব আসনে ৬৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

ভোটের লড়াইয়ে ৬৭ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী ৮ ও জামায়াতে ইসলামী বিদ্রোহী রয়েছেন একজন।

স্থানীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১১টি সংসদীয় আসনে ভোটার রয়েছে ৪৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ২৪ লাখ ৬ হাজার ৮৯২ জন, নারী ভোটার ২৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৬৬ ভোট ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪১ জন।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা। প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। কোনো কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোরভাবে তা দমন করবে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এমএন/এমএস