ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

রামেক হাসপাতালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতিতে দুর্ভোগে রোগীরা

জেলা প্রতিনিধি | রাজশাহী | প্রকাশিত: ০২:১৭ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

ঢাকা, সিলেট, রংপুর ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চলছে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি।

হামলার বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মানববন্ধন ও অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি।

এদিকে সকাল সাড়ে ১০টায় হাসপাতালের সামনে মানববন্ধনে অংশ নেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। মানববন্ধন শেষে তারা হাসপাতালের পরিচালকের নিকট একটি স্মারকলিপি দেন।

স্মারকলিপিতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। তাদের দাবিগুলো হলো- সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে রোগীর সঙ্গে আসা অতিরিক্ত স্বজন বা অ্যাটেনডেন্ট নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, অ্যাটেনডেন্ট কার্ড ছাড়া হাসপাতালে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করা, প্রতিটি অ্যাডমিশন ওয়ার্ডে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা আনসার সদস্য মোতায়েন রাখা, দায়িত্ব পালনে কোনো আনসার সদস্য ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে একটি বিশেষ ‘র‌্যাপিড রেসপন্স টিম’ গঠন করা, ইতোপূর্বে সংগঠিত সকল হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে ছড়ানো অপপ্রচারমূলক ভিডিও অপসারণসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।

মানববন্ধনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক প্রতিনিধি ডা. তানভীর আহমেদ তৌকির বলেন, আমরা সেবা দিতে আসি, মার খেতে নয়। একের পর এক হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা হচ্ছে, অথচ আমাদের নিরাপত্তার জন্য কোনো স্থায়ী সমাধান নেওয়া হচ্ছে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মস্থলে ফিরছি না।

তিনি আরও বলেন, আমার দুই দিনের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছি। এরই মধ্যে যদি তারা আমাদের দাবি মেনে নেয় সেটি আমার যাচাই-বাছাই করে তবেই কর্মে ফিরবো। না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেবো।

ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মো. নাসরুল্লাহ শেখ বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ দিনদিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে চাই, কিন্তু ভীতিজনক পরিবেশে সেটি সম্ভব নয়। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, তাই আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের দাবি মানা না হলে আমার আরও কঠোর কর্মসূচি দেবো।

এদিকে কর্মরিবতির কারণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে চিকিৎসক সংকটের কারণে তারা সেবা পাচ্ছেন না, এমন অভিযোগ করেন।

রাজশাহীর পবা উপজেলার বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, সকাল থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আছি। ডাক্তাররা কর্মবিরতিতে থাকায় ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছি না। শুধু নার্সরা প্রাথমিকভাবে দেখছে, কিন্তু ডাক্তার না থাকায় খুব দুশ্চিন্তায় আছি।

নাটোরের বড়াইগ্রাম থেকে আসা রোগী শাহিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, দূর থেকে চিকিৎসা নিতে এসে দেখি চিকিৎসক নেই। লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। রোগীর কষ্ট বোঝার কেউ নেই।

হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর স্বজন রফিকুল ইসলাম বলেন, ডাক্তার সংকটের কারণে নিয়মিত রাউন্ড হচ্ছে না। রোগীর অবস্থা জানতে বারবার খোঁজ নিতে হচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।

আরেক রোগী নাসিমা খাতুন বলেন, ঠিকমতো সেবা পাচ্ছি না। কর্মবিরতির কারণে আমাদের মতো সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছি।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, ইন্টার্নদের কর্মবিরতিতে রামেকে চিকিৎসক সংকট দেখা দিয়েছে। তবে মিড ও সিনিয়র লেভেলের চিকিৎসকদের দিয়ে বর্তমানে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

সাখাওয়াত হোসেন/এমএন/এমএস