ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য

যাদের অন্য কোনো পেশা নেই, তাদের রাজনীতি মানে চাঁদাবাজি

জেলা প্রতিনিধি | কিশোগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৫:২০ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী ও বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুজ্জামান খোকন বলেছেন, ইমপ্রেসেবল রাজনীতি কোনো পেশা হতে পারে না। যাদের অন্য কোনো পেশা নেই, তাদের রাজনীতি মানে চাঁদাবাজি ও অর্থ কেলেঙ্কারি।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। আনিসুজ্জামান খোকন আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-১৭ এবং কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আনিসুজ্জামান খোকন বলেন, আমেরিকায় একজন আমাকে বলেছে, সে এমন একজন বাংলাদেশি সংসদ সদস্যকে চেনে যার সম্পদের পরিমাণ ৩০ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে হাতে গোনা কয়েকজনই এত সম্পদের মালিক হতে পারে। অথচ তারাই বড় বড় ভাষণ দেয়, বস্তিতে গিয়ে ভবন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, আবার হাজার টাকার বিনিময়ে ভোট কিনে নেয়।

বিএনপির এই প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বলেন, ঢাকা-১৭ আসনে আমার এক প্রতিপক্ষের মাসিক আয় তিন কোটি টাকা। সে আমার ছেলের থেকেও বয়সে ছোট। আমি কি এমপি ছিলাম না, ক্ষমতায় ছিলাম না? তাহলে আমার কাছে এত টাকা নেই কেন? আরেকজন প্রার্থী তারেক রহমান। তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়া আমাকে বলেছিলেন, সংসার চালানোর মতো টাকাও নেই। আমি বিচারপতি সাত্তারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা এনে দিয়েছিলাম সাহায্য হিসেবে। একটি গাড়ি ও একটি বাড়ির ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলাম। এসবের নেগোশিয়েশনে আমি নিজে ছিলাম। খুরশীদ জাহান হক ও বেগম জিয়াও ছিলেন।

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, বঙ্গবন্ধু, জিয়াউর রহমান, মওলানা ভাসানীর মতো মহান মানুষরা আজ রাজনীতিতে নেই। আজ রাজনীতিতে আছে আমার মতো টাউট-বাটপাররা। টাকা দিয়ে ভোট কেনা হয়, টাকা দিয়ে মানুষ কেনা হয়, পরে সেই টাকা আবার কামানো হয়। এই ব্যবস্থাটা ভাঙার জন্যই আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি।

তিনি নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচন কমিশনও আমাদের সঠিক সুযোগ দেয় না। তারাও গিরিঙ্গি খেলা খেলছে। মঈনউদ্দীন–ফখরউদ্দিন একটা সরকারকে বসিয়েছিল বিশেষ স্বার্থে, আর এখনকার নির্বাচন কমিশন আরেকটি সরকার বসানোর জন্য একই খেলা খেলছে। এই সরকারের পক্ষে সাংবাদিকরাও চলে যাবে। টিভি ও পত্রিকার মালিকরাও লাইনে দাঁড়াচ্ছে। কারণ দেশে ন্যায়বিচার নেই।

তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যই আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম। ২০২৪-এ শেখ হাসিনা মুক্ত হয়েছে। আমার মনে হয়, ন্যায়বিচারের জন্য আবারও একটি যুদ্ধ দরকার।

আনিসুজ্জামান খোকন বলেন, আমি বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিএনপি গঠনে আমি ছিলাম। আমার একটাই স্বপ্ন, একটাই লক্ষ্য—জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন।

নিজের সংসদ সদস্য থাকার সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি যখন এমপি ছিলাম, বাজেট কমিটির সদস্য ছিলাম। তখন বাজেট ছিল ৩০ হাজার কোটি টাকা। এখন অন্তর্বর্তী সরকারের বাজেট প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা। কিন্তু মানুষের মুখে সেই বাজেটের কোনো প্রতিফলন দেখি না। সব লুটে নিচ্ছে আমার মতো টাউট-বাটপাররা, এস আলমের মতো লোকেরা, বড় বড় রাজনৈতিক নেতা। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করছে।

নিজের ব্যক্তিগত জীবনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আমি ইউরোপে ট্যাক্সি চালিয়েছি, ফার্মে কাজ করেছি, দোকানে কাজ করেছি। এহসানুল হক মিলন মন্ত্রী ছিলেন, তাকে জিজ্ঞেস করলে বলবেন—তিনি দেখেছেন আমি রাস্তায় বরফ পরিষ্কার করে অর্থ উপার্জন করছি। আর অন্যরা বিদেশে রাজকীয় জীবনযাপন করেছে। তাদের কখনো টাকার অভাব হয়নি, কাজও করতে হয়নি।

তিনি বলেন, এই অচল ব্যবস্থা ভাঙতেই আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি।

উল্লেখ্য, আনিসুজ্জামান খোকন ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকে ময়মনসিংহ-১৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সহ-সম্পাদক ছিলেন। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি ১১ নম্বর সেক্টরে কর্নেল আবু তাহেরের অধীনে কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ করেন। এর আগে ১৯৭০ সালে তিনি সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ছিলেন।

এসকে রাসেল/কেএইচকে/জেআইএম