ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নারীদের প্রতি কুদৃষ্টি দিলে সেই চোখ উপড়ে ফেলা হবে: জামায়াত আমির

জেলা প্রতিনিধি | ঝিনাইদহ | প্রকাশিত: ০৮:৪৩ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। নারীদের প্রতি কেউ কুদৃষ্টিতে তাকাতে পারবে না, তাকালে সেই চোখ উপড়ে ফেলা হবে।’

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা আন্দোলন-সংগ্রামে স্বামী, স্ত্রী, সন্তান, বোন ও বাবাকে হারিয়েছেন আমি তাদের হয়ে আপনার সামনে দাঁড়িয়েছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চেষ্টা করেছি তাদের পাশে দাঁড়ানোর। কী অপরাধ ছিল তাদের। তাদের তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অপরাধ একটাই অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে নির্মম আচরণ করা হয়েছে। আমরা সন্তান হারানোদের কাছে গিয়েছি। তাদের আহাজারি সহ্য করতে পারিনি। অনেকে আছেন যারা তাদের সন্তানদের এখনো কোনো খোঁজ পাননি।’

তিনি বলেন, ‘পকেট থেকে জোর করে টাকা নেওয়া হয়েছে, চাঁদাবাজি করা হয়েছে। সেই ফ্যাসিবাদ বাংলায় আবার ফিরে আসুক আপনারা কী চান? আমাদের সন্তানরা যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আন্দোলন করেছেন। তাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এ জনপদে সব থেকে বেশি খুন করা হয়েছে।’

ঝিনাইদহ জেলা জামায়াত আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের এ সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন, ঝিনাইদহ-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের আবু তালিব ও ঝিনাইদহ-১ আসনের প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আলী আজম মো. আবু বকরের সভাপতিত্বে সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে জামায়াত আমিরের জনসভাকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে আসতে থাকে। বিকেল গড়ানোর আগে কানায় কানায় ভরে ওঠে জনসভার মাঠ। পুরো ঝিনাইদহ শহর লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মীদের বাস ট্রাকসহ থ্রি হুইলারে চরম যানজটের সৃষ্টি হয়।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে সড়ক পথে ঝিনাইদহে পৌঁছান জামায়াতের আমির। এরপর সরাসরি সমাবেশস্থলে পৌঁছে মঞ্চে ওঠেন। ৬টা ৫৫ মিনিটে বক্তৃতা শুরু করেন। মাত্র ২৩ মিনিটের বক্তব্যে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে তার একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তুলে ধরেন।

বক্তব্য শেষে তিনি জেলার চার সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা উপজেলা) এএসএম মতিউর রহমান, ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুণ্ডু) আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলা) অধ্যাপক মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ উপজেলা ও সদরের ৪টি ইউনিয়ন) মাওলানা আবু তালিবকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।

এম শাহজাহান/আরএইচ/এমএস