ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বিএনপি করায় মসজিদের মুয়াজ্জিনকে চাকরি থেকে অব্যাহতির অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি | নওগাঁ | প্রকাশিত: ১২:৪৭ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

বিএনপির রাজনীতি করায় নওগাঁর সাপাহারে একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে চাকরি থেকে অব্যাহতির দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

চাকরি হারানো ওই মুয়াজ্জিনের অভিযোগ, বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর কারণে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা চাপ সৃষ্টি করায় মসজিদ কমিটি তাকে চাকরি থেকে বাদ দিয়েছেন।

মসজিদের মুয়াজ্জিদের পদ থেকে চাকরি হারানো ওই ব্যক্তির নাম আল আমিন চৌধুরী। তিনি সাপাহার উপজেলা সদরের তালপুকুর মাস্টারপাড়া জামে মসজিদে গত ৪ বছর ধরে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছিলেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তাকে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি জানানোর পর আল আমিন চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার বিএনপি করা হয়তো ভুল ছিলো জামায়াতের কাছে।’

ভুক্তভোগী আল আমিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি দীর্ঘ সময় ধরে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এবং ছাত্রদলের রাজনীতি করার জন্য বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দিই। এতে মসজিদ কমিটি আমাকে বারবার রাজনীতি ছাড়তে চাপ দিচ্ছিল। বিশেষ করে এলাকার জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী আমাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য মসজিদ কমিটির লোকদের চাপ দিচ্ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতি করায় দীর্ঘদিন ধরে আমাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছিল। এরসঙ্গে যোগ হয় মসজিদের সামনে থেকে দোকান উচ্ছেদে আমার প্রতিবাদ করা। সোমবার রাতে মসজিদের সামনের একটি মুদি দোকান উচ্ছেদ করে দেয় মসজিদ কর্তৃপক্ষ। মুদি দোকানের মালামাল সরিয়ে নিতে সামান্য সময় দেওয়ার অনুরোধ করি। এতে মসজিদ কমিটির সভাপতি এলাহী বক্সসহ অন্যরা আমার ওপর ভীষণ ক্ষিপ্ত হন। পরে তারা আমাকে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দেন। রাজনীতির কারণেই মূলত আমাকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে।’

এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি এলাহী বক্স বলেন, ‘মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন হয়ে রাজনীত করা কেউ পছন্দ করবে না। নির্দিষ্ট দলের পক্ষে তার বিশেষ পক্ষপাতিত্ব অনেকেই পছন্দ করতো না। এছাড়া আমাদের মসজিদের সামনে একটি দোকান বসতে দেওয়া হয়েছিল। রকি নামের একটি ছেলে সেখানে মুদি দোকান করত। মসজিদের কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই দোকানদারকে বিষয়টি জানানো হয়। জানানোর পরও দোকান সরিয়ে না নেওয়ায় সোমবার দোকানটি উচ্ছেদ করা হয়। এলাকার লোকজন সবাই মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে মুয়াজ্জিন আল আমিন ওই দোকানদারের পক্ষে অবস্থান নেন। যে কারণে তাকে চাকরি থেকে বাদ দিতে হয়েছে।’

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হওয়ায় সাপাহার উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়।

সাপাহার উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবুল খায়ের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘সাপাহার উপজেলা সদরের একটি মসজিদ থেকে আল আমিন নামে একজনকে মুয়াজ্জিনের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আল আমিন তার ফেসবুক আইডিতে যে বক্তব্য দিয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওই ঘটনার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী বা সংগঠনের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নাই।’

আরমান হোসেন রুমন/এফএ/এমএস