ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পোস্টার ছাড়া প্রচারণা, নেই চিরচেনা রূপ

নিজস্ব প্রতিবেদক | রংপুর | প্রকাশিত: ০৪:৩৮ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনি প্রচারণা বলতেই চোখের সামনে ভেসে উঠতো রশিতে ঝোলানো কিংবা দেয়ালে সাঁটানো শতশত সাদা-কালো কাগজের পোস্টার। কিন্তু সেই চিরচেনা দৃশ্যে এবার এসেছে বড় পরিবর্তন। পোস্টারের বদলে টাঙানো হয়েছে ব্যানার-ফেস্টুন। ফলে ছাপাখানার ব্যবসায় ধস নেমেছে। সেইসঙ্গে প্রচার-প্রচারণাতেও দেখা দিয়েছে ঝিমানি ভাব।

নির্বাচনি আচরণ বিধিমালায় পরিবর্তন আসায় প্রার্থীরা এখন কাগজের পোস্টারে অর্থ ব্যয় না করে ব্যানার, ফেস্টুন ও ডিজিটাল মাধ্যমে ঝুঁকে পড়েছেন। বিশেষ করে ফেসবুক, ইউটিউব এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো হয়ে উঠেছে প্রচারণার প্রধান হাতিয়ার।

এদিকে ছাপাখানার ব্যবসায় ধস নামলেও পোস্টারের ব্যবহার কমে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। নির্বাচনের পর যত্রতত্র ছিঁড়ে পড়া পোস্টার ড্রেন আটকে দেওয়া বা শহর নোংরা করার যে সমস্যা ছিল, তা থেকে মুক্তি মিলছে।

পরিবেশবাদীরা এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বিপুল পরিমাণ কাগজ ও প্লাস্টিক লেমিনেটিং বর্জন করা পরিবেশের জন্য বিশাল এক জয়।

রংপুর প্রেসক্লাব মার্কেটের স্বপ্ন ডিজিটাল হাউসের স্বত্বাধিকারী মেহেদী হাসান লিমন জাগো নিউজকে বলেন, দেড় ইঞ্চি বাই দুই ইঞ্চি সাইজের একটা ফেস্টুন বানাতে খরচ পড়ে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। সেইসঙ্গে কাঠের ফ্রেম যুক্ত করলে খরচ পড়বে আরও ৩০-৩৫ টাকা। কাপড় দিয়ে বানানো একটা ফেস্টুন তৈরিতে সবমিলিয়ে খরচ হয় ৬০ থেকে ৭০ টাকা। খরচ বেশি হওয়ায় প্রার্থীদের ব্যয়ও বাড়ছে।

নিউক্রস রোডের আল-আমিন প্রিন্টার্স ও বাইন্ডিং এর স্বত্বাধিকারী আনিছুর রহমান বলেন, দেড় ইঞ্চি বাই দুই ইঞ্চি সাইজের একটা সাদাকালো পোস্টার ছাপাতে খরচ পড়বে ৩ থেকে ৪ টাকা। এক হাজার পোস্টার ছাপাতে খরচ হবে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। অপরদিকে, এক হাজার ফেস্টুন তৈরিতে খরচ হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।

নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের পোস্টার বানানোর আশায় ছাপাখানার ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় থাকলেও এবার সব গুড়েবালিতে পরিণত হয়েছে। অন্তত ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে তার।

সাহেবগঞ্জ এলাকার ভোটার মঞ্জু জানান, পোস্টারের কারণে আগে রাস্তাঘাট নোংরা হতো। এবার পোস্টার নেই। প্রার্থী কিংবা তার কর্মীরা লিফলেট নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। তবে এখন মোবাইলেই সব প্রার্থীর তথ্য পাওয়া যায়। ফেসবুক, ইউটিউব ও হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রার্থীদের সম্পর্কে জানা যায়। প্রথাগত নিয়মের বাইরে ডিজিটাল মাধ্যমে এখন সক্রিয় হচ্ছেন প্রার্থী ও ভোটাররা।

তবে নির্বাচনি প্রচারণায় ভাটা পড়েছে দাবি করে গুপ্তপাড়ার ভোটার আবু নাসের বলেন, আগে ঘর থেকে বের হলেই রাস্তায়, বিভিন্ন মোড়ে, দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার সাঁটানো চোখে পড়তো। পোস্টারে ছেয়ে যেত পাড়া-মহল্লার অলিগলি। একটা সাজসাজ রব বিরাজ করতো। এবার সেই চিরচেনা রূপ চোখে পড়ছে না। নির্বাচনি প্রচারণায় সেই আগের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে না।

পরিবেশগত দিক থেকে কাগজের পোস্টারের ব্যবহার বন্ধ থাকায় ভালো হয়েছে জানিয়ে রংপুরের পরিবেশ সুরক্ষা ফোরামের সদস্য সচিব ফরহাদুজ্জামান বলেন, নির্বাচনের পর রাস্তাঘাট পরিত্যক্ত ছেঁড়া কাগজে সয়লাব হয়ে যেত, যা ড্রেনেজ ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত। এছাড়া বিভিন্ন বাসা-বাড়ির দেয়ালে সাঁটানো পোস্টার সৌন্দর্য নষ্ট করতো। এবার কাগজের পোস্টার না থাকায় পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকছে না।

জিতু কবীর/এনএইচআর/জেআইএম