কিশোরগঞ্জ
জমি নিয়ে বিরোধে হত্যা, রাজনৈতিক হামলা বলে প্রচার
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাতিজার টেঁটার আঘাতে বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান কামালের (৫৫) মৃত্যুর ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক হামলা হিসেবে প্রচারের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহমুদুর রহমান কামালের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় তার ছেলে গুরুতর আহত হন।
মাহমুদুর রহমান কামাল কটিয়াদি উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পশ্চিম ভিটাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন।
তবে ঘটনার পরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দাবি করা হয়। জামায়াতের কর্মীদের হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামালের সঙ্গে তার বড় ভাই, ভিটাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে জালাল উদ্দিনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন সিদ্দিক টেঁটা দিয়ে তার চাচা মাহমুদুর রহমান কামালের মাথায় এবং তার ছেলে কাঁকনের হাতে আঘাত করে। এতে দুজন গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কটিয়াদি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হলে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহমুদুর রহমান কামাল মারা যান।
এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক রং লাগানোর চেষ্টা চালায়। একাধিক ফেসবুক পোস্টে ‘জামায়াতের সন্ত্রাসী হামলা’ বলে প্রচার চালানো হলেও এর পক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই।
নিহতের ভাগ্নে শাহিদ উজ্জামান জানান, ‘খুনি-সন্ত্রাসীদের কোনো দল হয় না। কোনো সম্পর্ক হয় না। খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। দয়া করে অপরাজনীতি থেকে বিরত থাকুন। কামাল আমার আপন ছোট মামা পারিবারিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিবাদ ছিল। নিজেদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে আমার মেজো মামার ছেলে সাদ্দামের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে মারা যান।’
কামাল মেম্বারের ভাতিজা দেলোয়ার হোসেন কাজল বলেন, ‘দয়া করে কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নোংরামি করবেন না এটা আমাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের এটা পুরোনো। কটিয়াদি আচমিতার মানুষ জানে কোনো একটা দলকে অযথা দায়ী করবেন না।’
ঘটনা সম্পর্কে আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, ‘এটি কোনো রাজনৈতিক ঘটনা নয়। জমিজমা নিয়ে আপন দুই ভাইয়ের পারিবারিক বিরোধ থেকেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।’
কটিয়াদি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, ‘জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষে মাহমুদুর রহমান কামাল গুরুতর আহত হন এবং পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
এসকে রাসেল/আরএইচ/জেআইএম