ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নির্বাচনি দায়িত্বে বিস্ফোরক মামলার আসামি, আ’লীগ-যুবলীগ নেতা

জেলা প্রতিনিধি | দিনাজপুর | প্রকাশিত: ০৬:৪৩ পিএম, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর) আসনে নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকায় বিএনপির মিছিলে ককটেল হামলার ঘটনায় হওয়া মামলার আসামিসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তিন নেতার নাম রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রয়া দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলায় মোট ৫৪ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৩০৮ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৩১০ জন পোলিং অফিসার নির্বাচনি দায়িত্ব পান। উপজেলা নির্বাচন অফিসার সাক্ষরিত একটি তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এসব অফিসারদের জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে গত ২৫ জানুয়ারি নির্বাচনি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

সেই তালিকায় পোলিং অফিসার হিসেবে তিন আওয়ামী লীগ নেতার নাম রয়েছে। তারা হলেন, খাজাপুর একরামিয়া ফাযিল মাদরাসার অফিস সহ-কাম হিসাব আব্দুস সাত্তার, চৌরাইট মহেশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুরাদ হোসেন সরকার ও খয়েরবাড়ী দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম সরকার।

জানা যায়, আব্দুস সাত্তার ফুলবাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক। তিনি ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে ককটেল হামলা মামলার ৮ নম্বর আসামি।

আব্দুস সালাম সরকার ৬ নম্বর দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিস্ফোরক মামলার ১২ নম্বর আসামি। তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। এছাড়া মুরাদ হোসেন সরকার ৫ নম্বর খয়েরবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দিনাজপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম-সদস্যসচিব ইমরান চৌধুরী নিশাদ বলেন, বিগত স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের শাসনামলে এই শিক্ষকরা নির্বাচনি দায়িত্বে থেকে ডামি নির্বাচনে সহায়তা করে হাসিনার ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করেছিল। সেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের পদধারী ও বিস্ফোরক মামলার আসামিদের নির্বাচনে দায়িত্ব দেওয়া কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গোপনে কোনোরকম যাচাইবাছাই না করেই এসব তালিকা করা হয়েছে। এর তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি, সেই সঙ্গে যাচাইবাছাই করে তালিকা থেকে ওই সব নাম প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি জানান, প্রশাসনে যারা আছেন তারা শুধু আগের ওই ব্যক্তিদেরকেই চেনে, নতুন করে কাউকে চেনে না। ওই হিসেবেই তারা বিগত দিনের পোলিং অফিসারদের তালিকা করেছে। নির্বাচনি কর্মকর্তাদের সতর্কভাবে কাজ করা উচিৎ ছিল। আমরা মনে করি, তারা উদাসীন ছিলেন, ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেননি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সামাদ জানান, আমরা প্রতিটি দপ্তর থেকে তালিকা সংগ্রহ করে সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে দিয়েছি। প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার মূলত তিনিই নিয়োগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আহমেদ হাছান বলেন, তালিকায় আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বা মামলার আসামি থাকলে তাদের দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হবে। নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত এই সুযোগ রয়েছে।

এমদাদুল হক মিলন/এমএন/এএসএম