ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গাজীপুর-৫

সহজ হবে না বিএনপির জয়, চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস

জেলা প্রতিনিধি | গাজীপুর | প্রকাশিত: ০৪:১৫ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ আসনে (কালীগঞ্জ উপজেলা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড) চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। এ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে চারজনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

প্রার্থীরা হলেন বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি একেএম ফজলুল হক মিলন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর খায়রুল হাসান (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান (হাতপাখা), জনতার দলের আজম খান (কলম), ইসলামী ফ্রন্টের আল আমীন দেওয়ান (চেয়ার), গণফোরামের কাজল ভূঞা (উদীয়মান সূর্য) এবং জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল)।

এ আসনে ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ময়েজ উদ্দিন আহমেদ। ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রয়াত ডা. আসফার হোসেন মোল্লা। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হন গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের কেন্দ্রীয় সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম ফজলুল হক মিলন। পরে একই বছরের জুনের নির্বাচনে বিজয়ী হন গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আওয়ামী লীগের আখতারউজ্জামান। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে জয়ী হন একেএম ফজলুল হক মিলন।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শহীদ ময়েজ উদ্দিনের মেয়ে মেহের আফরোজ চুমকি বিজয়ী হন। পরবর্তী সময়ে তিনি ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন। ২০১৮ সালেও এমপি হন তিনি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে চুমকিকে হারিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন ডাকসুর সাবেক ভিপি আওয়ামী লীগের প্রার্থী আখতারউজ্জামান।

এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ১৮ হাজার ৪৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৬০ হাজার ৪৩৬ জন। নারী ভোটার এক লাখ ৫৭ হাজার ৯৯২ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের দুজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ আসনে বিএনপির ধানের শীষের হেভিওয়েট প্রার্থী ফজলুল হক মিলনের অবস্থান সুসংগত হলেও অপর তিন প্রার্থীর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে পারেন। এরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর খায়রুল হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপত্র গাজী আতাউর রহমান এবং জনতার দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আজম খান।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খায়রুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। সাংগঠনিকভাবে তারা বেশ শক্তিশালী। তারা ভোটের জন্য মানুষের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। পরিবর্তনের জন্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন। করছেন সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ।

খায়রুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এলাকার মানুষের যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছি। আশা করি জনগণ নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জামায়াতের ইসলামীর প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বেছে নেবেন। আল্লাহর মেহেরবানিতে আমরা নির্বাচিত হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গাজীপুর-৫ আসনকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করে সুশাসনের একটি জনপদ গড়ে তুলবো।’

এ আসনে আরেক শক্তিশালী প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান মনোনয়ন পেয়েই এলাকায় ব্যাপক জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। নিজেদের ‘প্রকৃত ইসলামি দল’ দাবি করে জনগণের কাছে যাওয়ায় মানুষ তাদের ব্যাপকভাবে গ্রহণ করছে বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। দলীয় প্রতীক হাতপাখা নিয়ে তারা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। জনগণ ইসলামের পক্ষে হাতপাখাকে বেছে নেবে বলে আশা প্রকাশ করছেন তারা।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘হাতপাখার পক্ষে ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছি। সুষ্ঠু ভোট হবে বলে আশা করছি। জনগণ এবার হাতপাখাকে নির্বাচিত করবেন বলে প্রত্যাশা করছি।’

এ আসনে জনতার দলের কলম প্রতীকের প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় মহাসচিব আজম খান এবার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো ঠিক আছে বলে মনে করি না। কোনো একটি বিশেষ দলকে প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করছে। নির্বাচনে যদি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়, তাহলে মার্কা দেখে নয়, প্রার্থী ও তার যোগ্যতা দেখেই মানুষ ভোট দেবে। আমরা চাই নতুন রাজনৈতিক দল এবং নতুন নেতারা উঠে আসুক।’

জয়ের প্রত্যাশা করে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি একেএম ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘বহুদিন পর দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন হতে চলেছে। যে নির্বাচনের জন্য সীমাহীন ত্যাগ আমরা স্বীকার করেছি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। আমি নির্বাচিত হলে আমার আসনের গণমানুষের সব চাহিদা পূরণ করবো।’

যা বলছেন ভোটাররা

কালীগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা আরমান হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘কালীগঞ্জের এ আসনটি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিজয়ের পাল্লাই ভারী। জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এখান থেকে একসময়ে নির্বাচিত হয়েছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী বা অন্য দলের কেউ এখান থেকে নির্বাচিত হননি। এবার বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও জনতার দলের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে হচ্ছে। তবে সাবেক এমপি ফজলুল হক মিলনের জনপ্রিয় বেশি।’

নগরীর মুদি ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বলেন, ‘আমার দোকানে সব দলের লোকজনই আসে। তাদের সবার কথাবার্তা শুনি। মনে হচ্ছে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থীর ভোটের লড়াই হবে।’

জাঙ্গালিয়া এলাকার বাসিন্দা নূর আলম বলেন, ‘এ এলাকার কৃতিসন্তান জনতার দলের মহাসচিব আজম খান জনপ্রিয় নেতা। তিনি মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা গাজী আতাউর রহমান এবং জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী খায়রুল ইসলামও জনপ্রিয়। সবমিলিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।’

আমিনুল ইসলাম/এসআর/এএসএম