ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বিএনপি-আ’লীগ দুই দলই জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করেছে

জিতু কবীর | প্রকাশিত: ১২:৪৬ পিএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় মুখর ভোটের মাঠ। চায়ের কাপে উঠছে ঝড়। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে অলিগলি সর্বত্র বইছে ভোটের হাওয়া। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কে বসবেন মসনদে তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

শেষ মুহূর্তে এসে নির্বাচনি পরিবেশ, দলীয় অবস্থানসহ সমসাময়িক নানা বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের

জাগো নিউজ: এখন পর্যন্ত নির্বাচনি পরিবেশ কেমন দেখছেন?

জি এম কাদের: রংপুর এলাকায় আমরা মোটামুটি ইজিলি মুভ করছি। সদর আসনে কোনো সমস্যা আমি দেখছি না এখনো। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া থেকে আমাদের এক প্রার্থী নিরাপত্তার অভাব মনে করায় উইথড্রো করেছেন। যদিও ওখানকার প্রশাসন তাকে নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন, কিন্তু উনি নিশ্চিন্ত হতে পারেননি।

পরিবেশ তেমনই ছিল। নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই নাকি অনেক মামলার আসামি এবং তাদেরকে ইনডাইরেক্টলি অনেক হুমকি দেওয়া হচ্ছিল যে, যেকোনো সময় ধরে নেওয়া হবে, জেলে দেওয়া হবে। আর জেলে যেতে আমাদের কর্মীরা আজকাল ভয় করে, কেননা কোনো জামিন দেওয়া হয় না। বছরের পর বছর ধরে রাখা হচ্ছে। জামিন হওয়ার পর আবার নতুন মামলা দেওয়া হচ্ছে। এসব কারণে উনি আর ঝুঁকি নিতে চাননি। এই ধরনের পরিস্থিতি আমাদের কাছে দুঃখজনক। সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হওয়া উচিত। আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো পাচ্ছি না। অনেক জায়গা থেকেই আমরা এই অভিযোগ পাচ্ছি।

জাগো নিউজ‌‌: নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে কোনো আশঙ্কা দেখছেন?

জি এম কাদের: আশঙ্কা তো আছেই। সবচেয়ে বড় কথা হলো, একটা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিজস্ব একটি ঘোষিত দল আছে এনসিপি এবং তারা সেটা তৈরি করেছেন। সবকিছুতে পৃষ্ঠপোষকতা করছেন, এখনো করে যাচ্ছেন। জামায়াতও অনেক ক্ষেত্রে এই এনসিপির সঙ্গে এমনভাবে জড়িত যে তাদের মাদার সংগঠন বলে আমি মনে করি। সেখানে জামায়াত-এনসিপি সরকারি দল। সরকারি দল এবং সরকার, সরকারের আন্ডারে নির্বাচন হচ্ছে। সেখানে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তো আমাদের সন্দেহ আছেই। কোনো সময়, কোনো দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশে কোনোদিন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়নি। এখানে তো অবাধ হচ্ছেই না, সুষ্ঠু হবে কি না এটা নিয়ে আমাদের সন্দেহ শেষ পর্যন্তই থাকবে।

জাগো নিউজ‌‌: এবার জাতীয় পার্টি কোনো জোটে না গিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এতে জাতীয় পার্টির অবস্থান ভালো হচ্ছে বা হয়েছে?

জি এম কাদের: জাতীয় পার্টি দীর্ঘদিন নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে, এখনো হচ্ছে। বিভিন্নভাবে জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করা হয়েছে। বল প্রয়োগ করে, মামলা দিয়ে, জোর করে আমাদের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করে, জেল-জুলুম দিয়ে নির্যাতর করা হয়েছে। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ দুটো দলই কৌশলে আমাদেরকে দুর্বল থেকে দুর্বলতর করেছে। এবারই যেকোনোভাবে হোক, প্রতিকূলতার মাঝেও আমরা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছি। আমরা আমাদের নিজস্ব রাজনীতি নিয়ে জনগণের কাছে গিয়েছি। তারা যেটা চায়— বিশেষ করে নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষ, বঞ্চিত, বৈষম্যের শিকার, বিভিন্নভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, বিভিন্নভাবে অত্যাচারিত হচ্ছে—তাদের কণ্ঠস্বর হিসেবে জাতীয় পার্টিকে তারা গ্রহণ করছে।

জনগণ মনে করছে যে জাতীয় পার্টি আমাদের রক্ষা করছে, আমাদের কথাগুলো বলছে। সেই হিসেবে আমি মনে করি জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক অবস্থান অন্য যেকোনো বারের চেয়ে এখন অনেক শক্তিশালী। কাজেই আমরা এককভাবেই করছি এবং এটার প্রতিফলন হিসেবে ভোট যদি সঠিকভাবে গণনা হয়, সঠিকভাবে রেজাল্ট হয়, আমরা ভালো ফলাফলের আশা করছি।

জাগো নিউজ‌‌: জোটের বাইরে এককভাবে নির্বাচনে গিয়ে আপনারা কী রকম ফল আশা করছেন? সারাদেশে কতগুলো আসনে আপনারা জয়ী হতে পারেন বা কতগুলো আসনে আপনারা সম্ভাবনা দেখছেন জয়ের?

জি এম কাদের: আমি আসন সংখ্যা এখানে বলতে চাই না। এর আগেরবার আমাদের রাজনীতিটা যেমন ছিল, এতে লাভবান হয়েছে শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী, যারা দীর্ঘদিন থেকে দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করছেন, অনেক কষ্ট স্বীকার করে রাজনীতি করেছেন, দলটাকে ধরে রেখেছেন, তাদের মূল্যায়ন সঠিকভাবে আমরা করতে পারিনি। এবার জোটের থেকে বাইরে এসে সম্পূর্ণ দল নিয়ে নির্বাচন করায় আমরা মনে করছি সকলেই এর মধ্যে জড়িত হচ্ছেন। আমরা এমপি ইলেকশনে যতটুকু ভালো করতে পারি, সামনের দিকে অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও আরও ভালো ফলাফলের আশা আছে। দলটাকে আমরা ওইভাবে গড়ে তুলতে চাচ্ছি।

শুধু টপ হেভি নয়, উপরের দিকে লালন-পালন করা, গোড়ার দিকে খেয়াল নাই—এ ধারণা থেকে দূরে এসে আমরা এখন সত্যিকার অর্থে তৃণমূল থেকে শক্তিশালী করে ও ভিত্তি শক্তিশালী করে দলকে এগিয়ে নিতে চাচ্ছি। এর প্রেক্ষিতে আমরা অনেক কিছু ঝুঁকি নিয়েছি এবং এককভাবে নির্বাচন করছি, যেখানে হয়তো আরেকজনের সঙ্গে আন্ডারস্ট্যান্ডিং করলে সহজেই জেতা যেত। কিন্তু আমরা সুযোগ নিতে চাই এবং জনগণ আমাদেরকে মূল্যায়ন করুক, সঠিকভাবে আমাদের রাজনীতিকে মূল্যায়ন করুক। আমরাও নিজেকে মূল্যায়ন করতে পারি যে, আমরা কতটুকু ভালো পথে আছি, কতটুকু আমরা জনগণের কাছে যেতে পেরেছি। এটা আমরা এই নির্বাচনের মাধ্যমেই দেখতে চাই।

এমপি নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, আমরা আশা করবো- আমাদের যে দলীয় রাজনীতি, শুধু রংপুর ভিত্তিক না, সারাদেশময় যে আমাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সেটা আরও বেশি সুযোগ পাবে ওপরে বেড়ে ওঠার জন্য। এটার জন্যই আমরা এই ধরনের ঝুঁকি নিয়ে এই রাজনীতি করছি। আমরা যে রাজনীতি দিচ্ছি, সেটা জনগণ চায়। আমাদের রাজনীতি স্বচ্ছ, পরিষ্কার। আমরা নির্ভীকভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছি। জনগণ আমাদের গ্রহণ করবে এটাই আমাদের আশা। যতটুকু গ্রহণ করে ততটুকুর ওপর বেসিস করে সামনের দিকে আমরা আবার রাজনীতি চালিয়ে যাবো।

জাগো নিউজ: পোস্টাল ব্যালটের ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

জি এম কাদের: সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে আরেকটা কথা আমি বলি- আমরা অনেক দিন আগে থেকে বলে আসছি, যদিও কথাটা সেভাবে উচ্চারিত হয়নি জোরালোভাবে। সেটা হলো যে, পোস্টাল ব্যালটের নামে যে কারচুপি চলছে, এটার ব্যাপারে আমাদের যারা এক্সপার্ট, যারা নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলেন, কথাবার্তা বলেছেন, তারা আমাকে রিপোর্ট করেছেন যে, এখানে যথেষ্ট কারচুপি বা ম্যানুপুলেশনের সুযোগ আছে। এই পোস্টাল ব্যালটগুলো ব্যবহৃত হলে এটার মাধ্যমে কোনো একটি দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ আছে। তারা আমাকে জানালে বড় দল বিএনপিকে আমি জানিয়েছিলাম যে এই বিষয়টি হয়তো আমাদেরকে ভালোভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। আমি অবশ্য বিস্তারিত টেকনিক্যাল বিষয় জানি না, তবে এটা আমি মনে করি উচ্চারিত হয়ে থাকা ভালো রেকর্ড হিসেবে।

জাগো নিউজ‌‌: গণভোটে কেন ‘না’ এর পক্ষে জাতীয় পার্টির অবস্থান?

জি এম কাদের: গণভোটে ‘না’ ভোটকে জয়ী করতে না পারলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিপর্যস্ত হতে পারে। ন্যায়বিচার, ইনসাফ বিপর্যস্ত হতে পারে এবং সার্বিকভাবে বাংলাদেশ একটা বড় ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে পারে। কারণ উদ্দেশ্যটা খারাপ। এই মুহূর্তে গণভোট করে হ্যাঁ-না করার কোনো দরকার ছিল না। এবং যে প্রক্রিয়ায় করা হচ্ছে অত্যন্ত অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া।

জাগো নিউজ‌‌: সময় দিয়ে কথা বলার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

জি এম কাদের: জাগো নিউজকেও ধন্যবাদ সর্বদা গণমানুষের কথা প্রচারের জন্য।

এফএ/এমএস