লক্ষ্মীপুর-৪
‘অবাধ্য নেতাদের’ ম্যানেজ করে ফুরফুরে মেজাজে বিএনপির নিজান
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের পৃথকভাবে অংশগ্রহণ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থীর পক্ষে থাকা বিএনপির ‘অবাধ্য নেতাদের’ ম্যানেজ করার কারণে নিজানের বিজয়ের পথ সুগম হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে এ আসনে জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী তানিয়া রবও ভোটের মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এ আসনে ভোটের মাঠে মূলত চারজন প্রার্থী সক্রিয় রয়েছেন। বিএনপি প্রার্থী নিজান দলের কেন্দ্রীয় সহ-শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং দুইবারের সাবেক এমপি। তানিয়া রব জেএসডির সহ-সভাপতি ও স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলক আ স ম আবদুর রবের স্ত্রী। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ কমলনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যদিকে জামায়াত জোট প্রার্থী আশরাফুর রহমান হাফিজ উল্যা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার চার লাখ ১৩ হাজার ৬৫8 জন। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১২২টি। তবে আইনশৃঙ্খলা বিবেচনায় বেশিরভাগ কেন্দ্রকেই ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে প্রশাসন।
রামগতি ও কমলনগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের জোট না হওয়ার সুযোগ নিচ্ছে বিএনপি। এছাড়া রামগতি উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা শরাফ উদ্দিন সোহেল আজাদ ও মীর আক্তার হোসেন বাচ্চুসহ কয়েকজন নেতা জেএসডির প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করায় নিজান কিছুটা চাপে ছিলেন। তবে সম্প্রতি নিজান ওই নেতাদের ম্যানেজ করতে সক্ষম হওয়ায় তার বিজয়ের পথে বড় কোনো বাধা দেখছেন না সমর্থকরা।
নির্বাচনের বিষয়ে জেএসডির প্রার্থী তানিয়া রব বলেন, ‘আ স ম আবদুর রব এ জনপদে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। আমি তার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে চাই। তবে বিএনপির প্রার্থী ও তার নেতাকর্মীরা আমার প্রচারণায় বাধা দিচ্ছেন। তারা ভোট ডাকাতির পরিকল্পনা করছেন।’
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আশরাফুর রহমান হাফিজ উল্যা বলেন, ‘ভোটে কারচুপি না হলে আমরাই বিজয়ী হবো। নেতাকর্মীরা বিরামহীনভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।’
হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে কাউকে দুর্নীতি করতে দেবো না। দরিদ্র ও নিম্নশ্রেণির মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।’
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ‘এখানে ভোট হবে ঈদের আমেজে। আমি চাই এ আসনের নির্বাচন সারাদেশের মধ্যে মডেল হোক।’
এসআর/এএসএম