সিলেট-২
শেষ দিনেও লুনার প্রচারণায় দেখা মেলেনি হুমায়ন কবিরের
প্রচারণার শেষ দিনেও সিলেট বিভাগে বিএনপি মনোনীত একমাত্র নারী প্রার্থী ও নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনার পাশে যাননি বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হুমায়ন কবির। একই এলাকার হয়েও লুনার নির্বাচনি প্রচারণায় দেখা মেলেনি তার। এতে দুজনের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এদিকে লুনার প্রচারণায় না গেলেও সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-৪ আসনের আরিফুল হক চৌধুরী ও মৌলভীবাজার-৪ আসনে দলটির প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরীর প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন হুমায়ন কবির। তাদের জনসভায় বক্তব্যও দিয়েছেন এই কেন্দ্রীয় নেতা।
জানা যায়, সপ্তাহ খানেক আগেও সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) আসনের প্রার্থী হিসেবে ‘গুম’ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর জনপ্রিয়তাকে সঙ্গী করে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছেন লুনা। প্রথমদিকে প্রচারণায় জাতীয় পর্যায়ের নেতা দূরের কথা, জেলা পর্যায়ের বড় নেতাদেরও দেখা মেলেনি। এমনকি উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতাও অনুপস্থিত ছিলেন।
পরে এই আসনের বিবদমান দুই পক্ষের বিরোধ সমাধানে সব নেতাকর্মীকে নিয়ে গত ৩১ জানুয়ারি জরুরি বৈঠক করেন বিএনপির সিলেট জেলা নির্বাচন সমন্বয়ক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। পরে তিনি নিজেও লুনার একটি সমাবেশে উপস্থিত থেকে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য নেতারাও প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন।
লুনার প্রচারণায় হুমায়ন কবিরকে দেখা না গেলেও তার বলয়ের নেতা সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল চৌধুরী শেষ নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। কিন্তু সমাবেশস্থলে যাওয়ার আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি।
এদিকে এ আসনের বিবদমান দুটি পক্ষের মধ্যে ‘দ্বন্দ্ব’ এখনও রয়েছে বলে মনে করছেন ভোটাররা। যার প্রভাব পড়তে পারে ভোটের মাঠে।
বিএনপি নেতা ও সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর গত ১৩ বছরে এ আসনে ধীরে ধীরে তৎপর হন ইলিয়াসের স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। স্বামীর জনপ্রিয়তা আর নিজের কাজে অল্পদিনেই স্থানীয় বিএনপিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সিলেট-২ আসনে হুমায়ুন কবির নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়। এরপর সিলেট-২ আসনে তাহসিনা ও হুমায়ুন পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের পক্ষে-বিপক্ষে তৎপরতা বাড়ে। সবশেষ ৯ অক্টোবর বিশ্বনাথ উপজেলায় তাহসিনা ও হুমায়ুন বলয়ের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন।
এ ঘটনার পর ২২ অক্টোবর হুমায়ুন কবিরকে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় ও পরবর্তীতে তাহসিনা রুশদীর লুনাকে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।
এ বিষয়ে জানতে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদী লুনাকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সাঁড়া দেননি। তবে তার একান্ত সচিব ময়নুল হক বলেন, প্রচারণা শুরু থেকে আজ পর্যন্ত হুমায়ন কবির একদিনও আসেননি।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হুমায়ুন কবিরের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে শেষ জনসভায় তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, ‘এই নির্বাচন শুধু একটি আসনের নির্বাচন নয়, এটি গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম। ধানের শীষ কোনো সাধারণ প্রতীক নয়। ধানের শীষ মানে মানুষের অধিকার, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো এবং মাথা উঁচু করে বাঁচার শক্তি। আজ জনগণের ভোটাধিকার হুমকির মুখে। এই সময় ভয় নয়, প্রয়োজন সাহস।’
ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের একটি ভোট ইতিহাস বদলে দিতে পারে। ধানের শীষে একটি ভোট দেশকে বদলে দেবে। ইলিয়াস আলীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সবাইকে ভোটের দিন শান্তিপূর্ন আবস্থান বজায় রেখে ভোট দিবেন, কারো ফাঁদে পা দিবেন না।’
আহমেদ জামিল/এমএন/জেআইএম