ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

খুলনা

ভোটারদের মাঝে উচ্ছ্বাস, সর্বোচ্চ নজরদারিতে প্রশাসন

জেলা প্রতিনিধি | খুলনা | প্রকাশিত: ০২:২৯ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাত পেরোলেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। খুলনার ছয়টি আসনে ৮৪০টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ঝুঁকিপূর্ণ ও নিরাপত্তার বিষয় মাথায় রেখে ৮৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮০৯টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে ভোটকে ঘিরে খুলনায় নিরাপত্তায় কাজ করছে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম।

এদিকে খুলনার ছয়টি আসনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভোটের প্রচারণার সময় শেষ হওয়াতে এখন নিরবতা বিরাজ করছে। জেলা ও উপজেলা থেকে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটের সরঞ্জাম যাচ্ছে। মার্কেট ও অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা নিরবতা কাজ করছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী কোস্টগার্ডের একাধিক টিম কাজ করছে নিরাপত্তায়। খুব বেশি জরুরি না হলে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। তবে ভোটারদের মধ্যে শেষ মুহূর্তে ভোট ঘিরে একটা নীরব আনন্দ রয়েছে।

খুলনায় এবার প্রায় ৮৫ হাজার নতুন ভোটার হয়েছেন। যাদের মধ্যে তরুণ ভোটার সংখ্যা গরিষ্ঠ। তরুণদের মধ্যে রয়েছে ভোট ঘিরে আনন্দ। তবে নির্বাচিত প্রার্থীর কাছে থাকছে তাদের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের অনেক দাবি।

জেলা নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা-১ আসনে ১১৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১০৪টি, খুলনা-২ আসনে ১৫৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০০টি, খুলনা-৩ আসনে ১১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০০টি,খুলনা-৪ আসনে ১৪৪টি কেন্দ্রের সবগুলোতে,খুলনা-৫ আসনে ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৯টি এবং খুলনা-৬ আসনে ১৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২২টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩০০টি কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের সাথে থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা।

শাহরিয়ার ইসলাম চয়ন খুলনা-২ আসনের একজন তরুণ ভোটার। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন। এবারের ভোটে ছুটিতে খুলনা এসেছেন। তিনি বলেন, আগামীকাল ভোট। ভোটকে ঘিরে হৈ হুল্লোড় না থাকলেও একটা নীরব আনন্দ রয়েছে। ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়া পর্যন্ত একটা নীরব আনন্দ অনুভব করছি।

তিনি আরও বলেন, আমি দীর্ঘ ৫ বছর ঢাকাতে রয়েছি। ছুটিতে খুলনায় পরিবারের কাছে চলে আসি। দীর্ঘ সময় পর পর আসাতে চোখে হঠাৎ করে উন্নয়ন বা পরিবর্তন ধরা পড়ার কথা। কিন্তু তেমন পরিবর্তন খুলনার হয়নি। খুলনা নগরীতে আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। বিভাগীয় শহর হিসেবে খুলনার দৃশ্যমান উন্নয়ন বিগত দিনে হয়নি। তবে এবার উন্নয়ন করতে পারবে তেমন যোগ্য মানুষকে ভোট দেবো।

খুলনা-৪ আসনের ৮০ বছর বয়সি ভোটার মুকুল দাস। তিনি বলেন, প্রায় ৬০ বছর ধরে রুপসায় বসবাস করছি। এখানকার স্থানীয় উন্নয়নে অনেক সমস্যা আছে। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সমস্যা নেই। সবকিছুর সাথে তারা মানিয়ে নিয়েছেন। তবে ভোট কাকে দেবেন এমন সিদ্ধান্ত তিনি এখনো নেননি। ভোটকেন্দ্রে সকালেই যাবো। ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত যেতে যেতে নেবো।

খুলনা-৩ আসনের ভোটার নতুন আফরিন বলেন, এবার প্রথমবার ভোট দেবো। একটা আনন্দ কাজ করছে। আমাদের আসনে অনেকজন প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। তবে সৎ, যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিকে প্রথম ভোটটা দেবো। আমি মনে করি, সকলে ভোটের স্বাধীনতায় নিজের পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারবে।

ভোটারদের মাঝে উচ্ছ্বাস, সর্বোচ্চ নজরদারিতে প্রশাসন

তিনি আরও বলেন, শিল্পাঞ্চলখ্যাত আমাদের অঞ্চলটির নাম মানুষের মুখে মুখে। তবে আমি শিল্পের কোনো কিছু ছোট থেকেই দেখছি না। শিল্প কলকারখানা যা ছিল, সব বন্ধ হয়েছে, আরও এক যুগ আগে। ধাপে ধাপে অন্যান্যগুলো বন্ধ হয়েছে। এই শিল্প কলকারখানাগুলো চালু করার মানসিকতা নিয়ে প্রার্থীরা তাদের ভোটারের কাছে গেছেন। আমি চাই বিজয়ী যেই হোক, সে যেন কলকারখানাগুলো চালু করে।

খুলনা-৫ আসনের ভোটার ইয়াসিন সরদার জানান, ডুমুরিয়ায় ভোটের পরিবেশ ভালো। নিরবতা রয়েছে। ভোটকে ঘিরে কোনো অরাজকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা নেই।

তিনি আরও জানান, ডুমুরিয়ায় পুরাতন ভোটার অনেক। এবার সকলের মধ্যে আলাপচারিতায় একটা আনন্দ আনন্দ ভাব বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু সেই আনন্দ দৃশ্যমান হচ্ছে না। মানুষের সঙ্গে কথা বললে বিষয়টা বোঝা যাচ্ছে।

খুলনা জেলা জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৩০০টি কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের বডিতে থাকবে বডি ক্যামেরা। যা সরাসরি পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে মনিটরিং হবে। সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ১২০০ আর্মি স্টাফ মাঠে থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে তারাও কাজ করবেন। সার্বক্ষণিক সব সিসি ক্যামেরা মনিটরিং করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ভোটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন সফল করতে পারবো বলে আশা করছি।

খুলনা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, ভোটকে ঘিরে স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে রয়েছে। ভোট দিতে ও ফিরতে ভোটারের নিরাপত্তায় স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে থাকবে। কিছু কিছু জায়গায় উত্তেজনাকর খবর পেলেও প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তা সমাধান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘ্নে সকলে ভোট দিতে পারবেন। এমন প্রত্যাশা নিয়ে আমরা কাজ করছি। সব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র সিসি ক্যামেরা দ্বারা কেএমপি সদরদপ্তর, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট থানা মনিটর করা হবে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সব বাহিনী একসঙ্গে ব্যবস্থা নেবে।

আরিফুর রহমান/এমএন/এএসএম