ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বাগেরহাটে নির্বাচন পরবর্তী পাল্টাপাল্টি হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি | বাগেরহাট | প্রকাশিত: ০৯:৪০ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাগেরহাটের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন পরবর্তী হামলা-পাল্টা হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের খবর মিলেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা যায়। পুলিশ আটক করেছে দুজনকে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

হামলা-পাল্টা হামলায় বাগেরহাট সদর, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলায় বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রায় প্রতিটি ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হয়েছে।

সদরে পরাজিত-বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িঘর ভাঙচুর

বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি কারি মোল্লা, জামায়াত কর্মী জাহাঙ্গীর শেখ, ইয়াকুব আলী হাওলাদার ও মশিউর রহমানসহ ৫-৬ জনের বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনার জেরে শুক্রবার সকালে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের বাড়িসহ ৭-৮ বিএনপিকর্মীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে।

খবর পেয়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ওই এলাকা থেকে ইমরান ও তারেক নামে দুজনকে আটক করেছে।

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চন্দ্রপাড়া এলাকায় বিএনপি প্রার্থী ভোট কম পাওয়ায় স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি ও না পেয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

আহত অবস্থায় ব্যবসায়ী শেখ আব্দুস সালামকে উদ্ধার করে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বাড়ি চন্দ্রপাড়া গ্রামে।

কচুয়া উপজেলার গোপালপুর শহীদ আসাদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরে প্রতিপক্ষের মারধরে আসাদ মোল্লা, মোশারেফ শেখ ও শফিক মীর নামে বিএনপির তিনকর্মী আহত হয়েছেন।

এছাড়া কচুয়ার বাধাল বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত সমর্থকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মোরেলগঞ্জ-শরণখোলায় বিএনপির পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই আসনের বিজয়ী প্রার্থী মো. আব্দুল আলীম।

তিনি বলেন, দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা, মারধর ও হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে তাদের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে বাগেরহাট ১, ২ ও ৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আর বাগেরহাট-৩ আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী।

বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর, হুমকি-ধামকির অভিযোগ তুলে বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মো. রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘নির্বাচন পরবর্তীসময়ে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা করছে। আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর, বাড়িঘরে হামলা করেছে, হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। যা মোটেই কাম্য নয়। আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের সংযত থাকতে বলেছি।’

বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, ‘আমরা সবাইকে শান্ত থাকতে বলেছি। নির্বাচন হয়ে গেছে, সবাই মেনে নিয়েছে। এখন সংঘাতের কোনো কারণ নেই। এগুলোর সঙ্গে আমাদের দলের কেউ জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানতে চাইলে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আসছে। ভাঙচুরসহ কিছু বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর আছে। যে কোনো অপরাধের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স। যেসব ঘটনা ঘটেছে, জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’

নাহিদ ফারাজী/এএসএ/এমএস