ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শপথ নিয়ে এলাকায় ফিরেই চাঁদাবাজদের হুঁশিয়ারি হাসনাতের

জেলা প্রতিনিধি | কুমিল্লা | প্রকাশিত: ০১:৩৭ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে এলাকায় ফিরেই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেবিদ্বার নিউমার্কেট এলাকার দোকান মালিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে বাজার ইজারা সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে জানান, নির্ধারিত কাঁচাবাজার এলাকার বাইরে চাঁদা তুলতে গেলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুললে তিনি দায় নেবেন না।

এ ঘটনার দুই মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ভাইরাল ভিডিওতে হাসনাত আবদুল্লাহকে বলতে শোনা যায়, আপনি (শাহ আলম) ইজারা তোলবেন বাজার থেকে। বাজেরের বাহিরে চাঁদা তুলতে আসবে না। দেদিদ্বারে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না। আপনি শুধুমাত্র কাঁচা বাজারের ইজারা নিয়েছেন। আপনি কাঁচা বাজারের এদিকে যদি আসেন, মানুষ আপনাকে ধরে পেটালে পুলিশের হাতে তুলে দিলে আমাদের কিছুই করার নেই। চাঁদাবাজদের মানুষ ধরে পিটাবে, বুঝেছেন।

এ সময় ফোনের অপর প্রান্ত থেকে অভিযুক্ত শাহ আলম বলেন আমাকে শোধন ডিলার পাঠিয়েছে। উত্তরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শোধন ডিলার আপনাকে পাঠিয়েছে, আপনি চাঁদা তোলেন। আমি যদি আপনাকে বলি আপনি এই বাড়িতে গিয়ে খুন করে আসেন, আপনি খুন করে আসবেন? কাল থেকে যেন আপনাকে না দেখি।

এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, কাল থেকে যদি চাঁদার জন্য আসে আপনারা বেঁধে রাখবেন। শাহ আলমকে বেঁধে খবর দিবেন।

অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের আগে আওয়ামী লীগের দেবিদ্বার পৌর কমিটির সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম চেয়ারম্যান বাজারের ইজারা নিয়েছেন। ওই সময় তিনি বাজারের বাহিরে দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়কের মাথা থেকে কলেজ গেইট পর্যন্ত সড়কে দুই পাশে অবৈধ দোকান বসিয়ে মাসিক ও দৈনিক চাঁদা আদায় করতেন। এতে দেবিদ্বার উপজেলা সদরে যানজটসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হলেও তার ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতেন না।

সরকার পতনের পর আবুল কাশেম চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দেবিদ্বার পৌর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হাজী মো. শোধন মিয়ানহ (শোধন ডিলার) কয়েকজন বাজার ইজারা নেন। এরপর তারাও নিউ মার্কেটসহ পৌর সভার বিভিন্ন স্থানে নিজেদের ইচ্ছেমতো দোকান বসিয়ে এককালীন, মাসিক ও দৈনিক চাঁদা নেন ব্যবসায়িদের কাছ থেকে। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হলেও তার নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক ভ্যানগাড়ির মাধ্যমে ফুটপাতসহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে এখন ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শোধন ডিলার বলেন, বাজার ডাক আমরা ১৬ জনে নিয়েছি। তাছাড়া শাহ আলমকে আমি চাঁদার জন্য পাঠাইনি। এই দায় দায়িত্বও আমার না। বাজার ইজারার ডিট বাশারের নামে। এটা বাশার বলতে পারবেন। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা।

তবে বাশারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দেবিদ্বারে এসিল‍্যান্ড ও পৌর প্রশাসক মো. ফয়সল উদ্দিন বলেন, কাঁচাবাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে, কাউকে ফুটপাত ইজারা দেওয়া হয়নি। উচ্ছেদ অভিযানের পর যারা পুনরায় দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন শিগগির তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জাহিদ পাটোয়ারী/এনএইচআর/এএসএম