ফরিদপুরে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি মোস্তফা মোল্লা
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নিজের মেয়েকে (২২) ধর্ষণের দায়ে মোস্তফা মোল্লা (৪২) নামের এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মোস্তফা ভাঙ্গা উপজেলার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের বড়পাল্লা গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মোস্তফা মোল্লা ১৯৯৯ সালে ভাঙ্গার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের একটি গ্রামে নাজমা বেগম নামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এক নারীকে বিয়ে করেন। ওই নারীকে বিয়ের আগে মোস্তফা আরও একটি বিয়ে করেছিলেন। তবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ওই নারীকে বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই থাকতেন তিনি। ওই সংসারে তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
মোস্তফা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মেয়েকে (২২) ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা ওই মেয়ে তার মা নাজমা বেগমের কাছে খুলে বলেন। তবে তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি। পরে বিষয়টি আত্মীয়-স্বজনদের জানানো হলে তারা এসে মোস্তফা মোল্লার কাছে এ বিষয়ে জানতে চান।
এ ঘটনার পর মোস্তফা কিছু না জানিয়ে তার প্রথম স্ত্রীর বাড়ি পাশের উপজেলা সদরপুর এলাকায় গিয়ে গা ঢাকা দেন। সেখানে এক মাস থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে আবার তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে চলে আসেন। এসময় নিজের ওই মেয়েকে কয়েক মাস ধরে ক্রমাগত ধর্ষণ করতে থাকেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৯ মার্চ আবারও ধর্ষণ করেন মোস্তফা। এসময় মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে তাকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। এ ঘটনায় মেয়েটির মামা মোস্তফা মোল্লাকে একমাত্র আসামি করে ভাঙ্গা থানায় মামলা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। সুস্থ সমাজে এটি কাম্য নয়। আজকের এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।
এন কে বি নয়ন/এসআর/জেআইএম