ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

রমজান ঘিরে পাহাড়ের পাদদেশে পুদিনার আবাদ, অর্ধকোটির বাণিজ্যের আশা

উপজেলা প্রতিনিধি | মিরসরাই (চট্টগ্রাম) | প্রকাশিত: ১২:৪৮ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে রমজান মাস ঘিরে বাণিজ্যিকভাবে পুদিনা আবাদ করা হয়েছে। উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে ৫০০ কৃষক সুগন্ধি এই পুদিনার আবাদ করেছেন। এসব পুদিনা চাষে তারা ৫০ লাখ টাকার বাণিজ্যের আশা করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ভাটিয়ারী, সলিমপুর, কুমিরা, সোনাইছড়িসহ আরও অন্যান্য স্থানে পুদিনার চাষ হলেও সবচেয়ে বেশি সুগন্ধি পুদিনার চাষ হয়েছে উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের জাহানাবাদ এলাকার খাদেম পাড়া পাহাড়ের পাদদেশে। এখানে শুধু ১০ হেক্টর জমিতে ঔষধী গুণে ভরা পুদিনার চাষ হয়েছে। মাহে রমজানে চট্টগ্রামের মানুষদের ইফতারের সঙ্গে একটু পুদিনা না থাকলে যেন চলেই না।

ভাটিয়ারী ইউনিয়নের জাহানাবাদ খাদেম পাড়া এলাকার কৃষক মো. শফি চলতি মৌসুমে রমজান ঘিরে ৪০ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পুদিনা পাতার চাষ করেছেন। তিনি বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে পুদিনা চাষ করে অনেক লাভবান হয়েছি। এতে সব মিলিয়ে খরচ পড়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। বাজারদর ভালো থাকলে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে প্রায় ২ লাখ টাকারও অধিক পুদিনা বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, এ এলাকায় আমার মতো মো. শাহ আলম, মো. সেলিম, শাহাজানসহ অন্তত ৭০ জন কৃষক কম বেশি পুদিনার চাষ করেছেন এ এলাকায়।

ওই ব্লকে দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শিরিন আক্তার বলেন, সীতাকুণ্ডে পাহাড়ের পাদদেশে কৃষকরা ঔষধি উদ্ভিদ পুদিনা পাতার চাষ করেছেন। প্রতিবছর রমজানের এই সময় কৃষকরা পাইকারিতে পুদিনা বিক্রি করে অনেক লাভবান হচ্ছেন। এবারও অধিক লাভের আশায় তারা আগের চেয়েও বেশি পরিমাণ পুদিনার চাষ করেছেন।

তিনি বলেন, শুধু ভাটিয়ারীতে অন্তত ১০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পুদিনার চাষ হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবছর রমজানকে সামনে রেখেই কৃষক পরিবারগুলো এ অঞ্চলে পুদিনার চাষ করে থাকেন। পুদিনার উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে ৫০০ জন কৃষক পুদিনার চাষ করেছেন। এখানে সারা বছর পুদিনার চাষ হলেও রমজানে সবচেয়ে বেশি পুদিনার চাষ হয়ে থাকে। আর স্থানীয়ভাবে পুদিনার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় নিয়ে যাচ্ছেন পাইকাররা। বর্তমানে কৃষক পরিবারগুলো পুদিনা চাষে অর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি প্রচুর কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হচ্ছে।

অন্যদিকে বার্ষিক লাখ লাখ টাকা আয় করছেন কৃষকরা। বর্তমানে ৮৫ মেট্রিক টন পুদিনার উৎপাদন হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকার বেশি বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

এম মাঈন উদ্দিন/এফএ/এএসএম