ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভোটকেন্দ্র সংস্কার কাজে নয়ছয়, অর্থ আত্মসাতের অ‌ভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি | কু‌ড়িগ্রাম | প্রকাশিত: ০৪:০৫ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েক‌টি ভোটকেন্দ্রে সংস্কার কাজের অ‌নিয়মের অ‌ভিযোগ পাওয়া গেছে।

একা‌ধিক সূত্র জা‌নিয়েছে, লোকদেখানো কাজ করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা না‌র্গিস ফা‌তিমা তোকদারের যোগসাজশে বরাদ্দের টাকা নয়ছয় করেছে।

এদিকে সরে‌জ‌মিনে কয়েক‌টি প্রতিষ্ঠানে ঘুরে এর সত্যতাও পাওয়া গেছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের আওতায় উপজেলার ৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র মেরামত ও সংস্কারের জন্য প্রথম ধাপে ২৮ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে দ্বিতীয় ধাপে একই বিদ্যালয়গুলোর জন্য আরও ৫৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭০ টাকা প্রদান করা হয়। দুই ধাপে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৬ লাখ ৮০ হাজার ১০ টাকা।

এর মধ্যে দড়িচর পাঁচপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বুড়াবুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, খামার বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ টাকা এবং দক্ষিণ খামার বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয় ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষ, দরজা-জানালা, বেঞ্চ-ডেস্ক, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ ও পানির লাইনের জরুরি সংস্কার করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা করা হয়‌নি। কোথাও শুধু কয়েকটি এলইডি বাল্ব লাগানো, কোথাও আংশিক রং করা, কোথাও অস্থায়ী টিনের বেড়া নির্মাণ কিংবা মাঠে সামান্য মাটি ফেলার কাজ দেখা গেছে।

দড়িচর পাঁচপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দেড় লাখ বরাদ্দ দেওয়া হলেও শুধু বিদ্যুৎ ও পানির লাইনের কিছু মেরামত করা হয়েছে।

বুড়াবুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারটি এলইডি বাল্ব স্থাপন, গাইড ওয়ালের আংশিক মেরামত ও কিছু স্থানে রং করার কাজ দেখা গেছে।

দক্ষিণ খামার বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরুল হক জানান, বরাদ্দের ১ লাখ টাকা দিয়ে টয়লেট রং, ছাদ বাগানের সংস্কার ও সোলার লাইনের মেরামত করা হয়েছে।

দক্ষিণ খামার বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ মিটার অস্থায়ী টিনের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি মাত্র ২৬ হাজার টাকা পেয়েছেন এবং সেই অর্থ দিয়েই কাজ সম্পন্ন করেছেন।

দড়িচর পাঁচপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ বেগম বলেন, আমি বরাদ্দের সঠিক কাজ করেছি।

বুড়াবুড়ি সরকা‌রি প্রাথ‌মিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার আব্দুল্লাহেল কাফী দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি এক লাখ টাকা পেয়েছি এবং যথাযথভাবে ব্যয় করেছি।

বিশ্বস্ত এক‌টি সূত্রে জানায়, কোনো কোনো বিদ্যালয়ে বরাদ্দের অর্ধেকেরও কম অর্থ ব্যয় হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও নতুন মালামাল কেনার নামে ভুয়া বিল-ভাউচার প্রস্তুতের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার নার্গিস ফাতিমা তোকদার বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে কাজ বুঝে নেবেন।

তবে ভোট গ্রহণ গত ১২ ফেব্রুয়ারি শেষ হলেও ভোটের আগে বরাদ্দ পাওয়া সত্ত্বেও কেন কাজ সম্পন্ন হয়নি এ প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দেননি তিনি।

উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে লিখিত ও মৌখিকভাবে বলে দিয়েছি এই বরাদ্দের অবকাঠামোগত কাজ শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। এতে কেউ যদি কোনো প্রকার অনিয়ম করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথোভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোকনুজ্জামান মানু/এনএইচআর/এএসএম