কক্সবাজারে এলপি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে এলপি গ্যাস পাম্পে আগুন/ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার শহরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে কমপক্ষে আটজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কলাতলীর আদর্শগ্রাম এলাকায় বাইপাস সড়কের পাশে জনবসতি ঘেঁষে একটি নবনির্মিত পাম্পে এ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণ ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে, যা আড়াইটার দিকেও চলছিল। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে মহাসড়কে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কলাতলীর দক্ষিণ আদর্শগ্রামে জনবসতির ভেতর রামুর এন আলম গ্রুপ অব কোম্পানির গ্যাস পাম্পটি স্থাপন করা হয়। মাত্র কয়েকদিন আগে এটি গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। বুধবার সন্ধ্যায় ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ বা নির্গত হয়ে প্রথম আগুন লাগে পাম্প এলাকায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও গ্যাস নির্গত হওয়া বন্ধ করা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা রিদুয়ানুল হক, সাদ্দামসহ আরও কয়েকজন জানান, গ্যাস আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে পাম্পের ১০০ মিটারের মধ্যে সব ধরনের আগুন জ্বালাতে নিষেধ করে মাইকিং করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। কিন্তু পাশে জিপ মেরামতের কারখানায় কোনো ব্যক্তি অসাবধানতাবশত সিগারেট ধরালে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ধরে যায় এবং তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বাড়িঘরে। এতে অগ্নিদগ্ধ হন বেশ কয়েকজন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন রাত দেড়টার দিকে গণমাধ্যমকে বলেন, ওই পাম্পে গ্যাস আনলোড করার সময় লিকেজ থেকে আগুন ধরে যায়। আহতদের বিষয়ে তিনি জানান, আটজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুজনকে এখানকার হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এখানে সন্ধ্যার দিকে গ্যাস নির্গত হওয়া শুরু হয় জানিয়ে মোরশেদ হোসেন বলেন, তখন সাড়ে ৭টার দিকে আগুন লাগলে নিভিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু গ্যাস ছড়াতে থাকলে আশপাশের লোকজনকে ফায়ার সার্ভিস সরিয়ে নেয়। পরে ১০০ ফুট দূরে জিপ স্টেশনে সম্ভবত কারও সিগারেট থেকে আগুন লেগে তা পাম্পের দিকে চলে আসে।
রাত ২টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আশপাশে থাকা ঘর থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হচ্ছে।
আদর্শগ্রামের বাসিন্দা রিদুয়ানুল বলেন, ‘এক কঠিন মুহূর্ত পার করছে এলাকাবাসী। আগুন জ্বালাতেই ভয় লাগছে। বিদ্যুৎ নেই, বিদঘুটে অন্ধকার। আজ রাতে আশপাশের কয়েক শ পরিবারে সেহরি রান্না হবে কি না সন্দেহ আছে।’
এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ‘বিস্ফোরণস্থলের কাছে আমাদের কয়েক শ কর্মীর আবাসন রয়েছে। আমরা তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি।’

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছমিউদ্দিন বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা দিচ্ছে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের সুযোগে আশপাশের বিরোধপূর্ণ অনেক জায়গায় ইটের দেয়াল গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মেহেদি হাসান নামের একজন বলেন, ‘গ্যাস পাম্প এলাকায় আমাদের জমি নিয়ে এক ভূমিদস্যু গংয়ের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। অগ্নিকাণ্ডের সুযোগে বাড়ির ও ভাড়াটিয়া নারীদের এনে আমাদের একটি দেয়াল গুঁড়িয়ে ফেলা হয়েছে। জানানোর পর পুলিশ রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছে।’
এসএএল/একিউএফ