ধুলিকণায় বিষাক্ত খুলনার বাতাস
ধুলিকণায় বিষাক্ত হয়ে উঠেছে খুলনার বায়ু/ছবি-জাগো নিউজ
ধুলিকণায় বিষাক্ত হয়ে উঠেছে খুলনার বায়ু। অপরিকল্পিতভাবে নগর উন্নয়ন, নির্ধারিত সময়ে সড়ক সংস্কার না করা এবং যানবাহন-ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে বায়ু। খুলনা সিটি করপোরেশন, ওয়াসা ও সড়ক বিভাগের কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত নির্মাণকাজেও পরিবেশগত নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। প্রতিদিনের এই দূষণে অতিষ্ঠ নগরবাসী।
নগরীর শিববাড়ী থেকে সোনাডাঙ্গা, ময়ূর আবাসিক এলাকা, গল্লামারি এলাকা, টুটপাড়া, ব্রিজ এলাকা, জিরো পয়েন্ট চত্বরসহ একাধিক এলাকায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার কারণে মূলত বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়েছে।
সোনাডাঙ্গার বাসিন্দা আকরামুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘খুলনা শহরের বায়ু অত্যধিক বিষাক্ত। শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে ধুলাবালি শরীরের ভেতরে যাচ্ছে। মাস্ক ব্যবহার করেও কাজ হয় না। এক ঘণ্টা বাইরে থাকলে মাথা থেকে পা পর্যন্ত জামা-কাপড় ধুলাবালিতে ভরে যায়। সিটি করপোরেশন পানিও দেয় না নিয়মিত। পানি দিলে অন্তত ধুলাবালি বাতাসে ছড়াতে পারবে না।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে গল্লামারি এলাকার বাসিন্দা ফজলুর রহমান বলেন, ‘বাসাবাড়ির জানালা খুলে রাখা যায় না। বায়ুদূষণ নিয়ে প্রতিটা মানুষ অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে।’
ফুলবাড়িগেট এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী দেব চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘আমাদের এ অঞ্চলের বায়ু এত বিষাক্ত ছিল না। যানজটে আটকে থাকা গাড়ির কালো ধোঁয়া আর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে মূলত বায়ুদূষণ বেড়েছে।’
এ বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিনিয়ত ড্রেন পরিস্কার করা হচ্ছে। মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে। কেউ যাতে যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলে, সেজন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন রাতে রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার রাখা হচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। দূষণ রোধে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’
পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন, উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সহযোগিতা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পরিবেশগত ছাড়পত্রের শর্ত মানা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ দূষণের পাশাপাশি আন্তঃদেশীয় দূষিত বাতাসের প্রবাহও খুলনার বায়ুদূষণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত কয়েক মাসে বায়ুতে ধুলিকণার মাত্রা অত্যধিক বেড়েছে।
আরিফুর রহমান/এসআর/এএসএম