ঈশ্বরদী
আলোচিত দাদি-নাতনি হত্যার ১২ ঘণ্টায়ও জানা যায়নি কারণ, আটক ২
পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনির হত্যার ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো রহস্য বা কারণ জানা যায়নি। এলাকার লোকজন এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে।
রাজশাহী বিভাগীয় এডিশনাল ডিআইপি (ক্রাইম) শামীম আহমেদ, পাবনা পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থলে র্যাব, পিবিআই, সিআইডিসহ গোয়েন্দা শাখার পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম তদন্তের কাজ শুরু করেছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় পুলিশ উপজেলার ভবানিপুর উত্তরপাড়া জয়নাল খাঁর মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও মেয়ে জামিলা আক্তারের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, মধ্যরাতে হঠাৎ কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে রাস্তায় বের হন স্থানীয়রা৷ পরে কান্নার আওয়াজ থেমে গেলে সবাই বাড়িতে চলে যান। শনিবার সকাল ৮টার দিকে একজন প্রতিবেশী তার বাড়িতে গেলে উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে জামিলাকে খোঁজাখুঁজির পর বিবস্ত্র অবস্থায় সরিষার ক্ষেতে মরদেহ পাওয়া যায়। ওই বাড়িতে শুধুমাত্র দাদি আর নাতনি ছিল রাতে। বাড়ির একমাত্র পুরুষ জামিলার বাবা জয়নাল খাঁ এক সপ্তাহ ধরে বাড়িতে নেই। জামিলার মা অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেছে। কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা বোঝা যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন:
উঠানে দাদির, সরিষা ক্ষেতে নাতনির বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার
ফাতেমা খাতুন নামে স্থানীয় এক গৃহবধূ বলেন, বাড়ির উঠানে দাদি সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে ছিল। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। জামিলার শরীরের কপাল, মাথা, গলাসহ বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তাকে বিবস্ত্র করে রেললাইনের পাশে সরিষা ক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। জামিলা পাশের দিকশাইল কারিমিয়া কওমিয়া মহিলা মাদরাসায় হাফেজিয়া পড়তো। সেখান থেকে পরে কালিকাপুর দাখিল মাদরাসায় ভর্তি হয়। সেখানে দশম শ্রেণিতে অধ্যায়রত ছিল। রোজা শুরুর পর থেকে আশেপাশের নারীদের জামিলা খাতুন তাদের বাড়িতে তারাবি নামাজ পড়াতেন। শুক্রবার রাতেও এলাকার মহিলাদের নামাজ পড়ান জামিলা।

নিহত বৃদ্ধা সুফিয়া খাতুনের বোন আসমা খাতুন বলেন, খবর পেয়ে বোনের বাড়িতে এসে দেখলাম বোনের মরদেহ উঠানে আর নাতনির মরদেহ সরিষা ক্ষেতে পড়ে আছে। এত বড় ক্ষতি আমাদের কে করলো বুঝতে পারছি না। আমার বোন-নাতনির সঙ্গে কারোতো কোনো শত্রুতা ছিল না। তাহলে কারা এ ঘটনা ঘটালো।
নিহত জামিলার মা শিরিনা বেগম বলেন, আমার মেয়ে নামাজি ও পরহেজগার ছিল। সে হাফেজিয়া পড়তো তারপর তাকে দাখিল মাদরাসায় ভর্তি করা হয়। কে আমার এতো বড় সর্বনাশ করলো? আমি আমার মেয়ে ও শাশুড়ি হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবণ কুমার জানান, দাদি-নাতনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
পাবনা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন, এটি নিঃসন্দেহে জঘন্য অপরাধ। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। ঘটনা তদন্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আমরা আসামিদের গ্রেফতার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আসামি গ্রেফতার বা হত্যাকাণ্ডের রহস্য জানা গেলে জানানো হবে।
শেখ মহসীন/এমএন/এমএস