ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভৈরবে পুলিশ-চোরাকারবারি মাসোহারায় খালাস হয় অবৈধ ভারতীয় পণ্য

উপজেলা প্রতিনিধি | ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) | প্রকাশিত: ১০:৫৮ এএম, ০৪ মার্চ ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে রেলওয়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই ট্রেন থেকে ভারতীয় অবৈধ পণ্য খালাসের অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কতিপয় সদস্য এই চোরাচালানে সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে।

ট্রেন থেকে ভারতীয় অবৈধ পণ্য পুলিশের সামনে নামানো ও পুলিশের সহযোগিতায় পাচারের ঘটনা রেলস্টেশনের সিসি ক্যামেরায় দেখা গেলেও পুলিশ বলছে, তাদের কিছুই জানা নেই। এ ঘটনায় সচেতন মহলের মধ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কতিপয় অসাধু সদস্য মাসোহারার ভিত্তিতে চোরাকারবারিদের রেলপথ দিয়ে অবৈধভাবে বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করতে সহযোগিতা করছেন। অবৈধভাবে ভারত থেকে রেলপথে পণ্য আনায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। ঈদ সামনে রেখে এসব ভারতীয় পণ্য পরিবহন আগের চেয়ে বেড়েছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে আসা ঢাকাগামী বিভিন্ন ট্রেন, বিশেষ করে কর্ণফুলি এক্সপ্রেস ভৈরব স্টেশনে থামলে একটি চোরাচালানি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম ও আউটার সিগন্যাল এলাকায় ট্রেন থামিয়ে বস্তাভর্তি ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিকস, চাল, জিরা, আতশবাজি ও মাদকদ্রব্য নামানো হয়।

তারা আরও জানান, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পণ্য খালাসের সময় রেলওয়ে পুলিশের কিছু সদস্যকে সেখানে নিরাপত্তা দিতে দেখা যায়। প্ল্যাটফর্ম ছাড়াও আউটার সিগন্যালে ট্রেন থামিয়ে পণ্য নামানোর পর দ্রুত অটোরিকশায় করে এসব অবৈধ পণ্য গন্তব্যে নিয়ে যায় চোরাকারবারিরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চোরাকারবারির স্বীকারোক্তিতেও একই চিত্র উঠে এসেছে। তিনি জানান, মাদক থেকে শুরু করে কসমেটিকস, শাড়ি বা জিরা সব পণ্যেরই চুক্তি আছে পুলিশের সঙ্গে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিটি স্টেশনে লোক সেট করা থাকে। সব জায়গাতেই নির্দিষ্ট হারে টাকা দিতে হয়, তাই কেউ বাধা দেয় না।

স্থানীয়রা বলেন, সবাই দেখেও কিছু বলে না। পুলিশ সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও না দেখার ভান করে। সাধারণ কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো তাকেই বিপদে পড়তে হয়।

মমিনুল হক নামের এক ট্রেনযাত্রী বলেন, লোকাল ট্রেনে প্রতিদিন ভারতীয় পণ্য ভৈরব স্টেশনে পুলিশের সামনেই নামানো হয়। পুলিশের পাহারায় এসব পণ্য অটোরিকশায় তুলে দেওয়া হয়।

ভৈরব রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক) হাসান মোহাম্মদ বলেন, আমার ডিপার্টমেন্টের কেউ জড়িত আছে বলে জানা নেই। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখবো। কেউ যদি জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ বলেন, পুলিশ চোরাচালান রোধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। রেলওয়ে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। সিসি ক্যামেরা আমি চেক করে দেখবো। অপরাধে কোনো পুলিশ সদস্যকে জড়িত পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজীবুল হাসান/এমএন/এমএস