ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

প্রেম থেকে পরিণয়

নোয়াখালীতে ফিলিপিনি তরুণী, ইসলাম গ্রহণ করলেন শ্রীলঙ্কার জয়শখারা

জেলা প্রতিনিধি | ফেনী | প্রকাশিত: ০৪:২৯ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২৬

প্রেমের টানে সুদূর ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কা থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন দুই তরুণী। করেছেন পছন্দের মানুষটিকে বিয়ে। এজন্য ধর্মও পরিবর্তন করেছেন শ্রীলঙ্কান তরুণী।

বুধবার (৪ মার্চ) রাতে শহরের কালি মন্দিরে সনাতন ধর্মের রীতি অনুযায়ী ফিলিপিনি তরুণীর বিয়ে সম্পন্ন হয়। ফিলিপিনি ওই তরুণীর নাম জেনি (৩২)। তার প্রেমিক নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার দরাপনগর গ্রামের হীরলাল পালের ছেলে সুজন পাল (৩৪)।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা থেকে ফেনীর দাগনভূঞায় ছুটে এসে ঘর বেঁধেছেন ইশারা মাধবী জয়শখারা নামের এক তরুণী। ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলাদেশে আসেন। পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নাম পরিবর্তন করে রাখেন জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত (২৭)। স্থানীয় যুবক এজাজ আহমেদ শিহাবের সঙ্গে পারিবারিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কাজের সূত্র ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে ছিলেন সুজন পাল। সেখানেই ২০১৮ সালে ফিলিপিনি তরুণী জেনির সঙ্গে পরিচয় হয় তার। দুজনের পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। পরে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। একপর্যায়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা। পছন্দের মানুষটিকে বিয়ে করতে বাংলাদেশে ছুটে আসেন জেনি। বুধবার রাতে ফেনী শহরে সনাতন ধর্মের রীতি অনুযায়ী সাত পাকে বাঁধা পড়েন এই প্রেমিক যুগল।

অনুভূতি জানিয়ে জেনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় সম্পর্কের পর আমি এখানে বিয়ের জন্য এসেছি। বাংলাদেশে এসে আমার ভালো অনুভূত হয়েছে। এখানে সবকিছু ভালো ও সুখকর লাগছে।’

এ বিষয়ে সুজন পাল বলেন, ‘প্রায় আট বছরের সম্পর্কের পূর্ণতা পেয়েছে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা সবসময় একসঙ্গে থাকতে চেয়েছি। সবাই আমাদের জন্য আশীর্বাদ করবেন।’

অন্যদিকে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানের একটি টেক্সটাইল কোম্পানিতে কাজ করার সময় শিহাব ও ইশারার পরিচয় হয়। দীর্ঘ তিন বছরের প্রেম শেষে তারা বিয়ের সিদ্ধান্তে উপনীত হন এবং বাংলাদেশে এসে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে পরিণয়ে আবদ্ধ হন। দাগনভূঞা পৌর এলাকার কাজি মাওলানা আবদুল কাদের প্রচলিত আইন ও শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন।

বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে এজাজ আহমেদ শিহাব বলেন, ‘ওমানে থাকা অবস্থায় একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমরা একে অপরকে বুঝতে পেরেছি। সেখানকার আইনে বিয়ে সম্ভব নয় বিধায় আমরা দেশে এসে বিয়ে করেছি। সে ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম হয়েছে। তার পরিবার ও আমার পরিবার বিষয়টি অবগত রয়েছে। পরিবারকে রাজি করাতে কিছুটা সময় লাগলেও এখন সবাই খুশি। সে আমাকে পেয়ে অনেক খুশি হয়েছে। আমাদের জন্য দোয়া চাই।’

নতুন নামে পরিচিত হওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ। শিহাবের পরিবার আমাকে নিজের মেয়ের মতো গ্রহণ করেছে। নতুন জীবন শুরু করেছি। সবার ভালোবাসা চাই।’

রামনগর ইউনিয়নের প্রবীণ শিক্ষক আবুল হোসেন বলেন, ‘ভালোবাসা দেশ-সীমানা মানে না। সবচেয়ে বড় কথা, তারা সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছেন। এটি ইতিবাচক উদাহরণ।’

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এসআর/জেআইএম