ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ

লালমনিরহাটে জ্বালানি তেল মজুতের হিড়িক

জেলা প্রতিনিধি | লালমনিরহাট | প্রকাশিত: ০৭:৩৪ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে লালমনিরহাটে জ্বালানি তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক সংকটের জেরে দেশে তেলের দাম বাড়তে পারে—এমন আতঙ্কে স্থানীয় বাজারে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন মজুতের হিড়িক পড়েছে। এতে সাধারণ ভোক্তা ও কৃষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরেজমিনে লালমনিরহাট সদর ও আদিতমারী উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও ট্রাক্টরের দীর্ঘ সারি। অনেকে ড্রাম ভরে তেল সংগ্রহ করছেন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুতদার তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দাম হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ ক্রেতারা।

শহরের বিনিময় ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা ক্রেতা মো. লিয়ন বলেন, ‘ইরান, আমেরিকা ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার কারণে বিভিন্ন তেল শোধনাগারে হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের খবর শুনেছি। এর ফলে তেলের দাম বাড়তে পারে জেনেই পাম্পে এসে তেল মজুত করছি। কয়েকদিনতো ভালোভাবে চালানো যাবে। পরিস্থিতি ঠিক হলে পরে আবার নেওয়া যাবে। এখন না নিলে দাম বাড়লে আমাদেরই লোকসান হবে।’

লালমনিরহাটে জ্বালানি তেল মজুতের হিড়িক

হাড়িভাঙ্গা হোসেন ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনে আসা আরেক ক্রেতা আনোয়ারুল হক মিলন বলেন, ‘হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তেলের দাম বাড়ার বা সংকটের খবর উঠে এসেছে। সামনে গাড়ি চালাতে হবে। তাই ৫০০-১০০০ টাকার তেল মজুত করে রাখছি, যাতে কয়েকদিন নিশ্চিন্তে চালানো যায়।’

শুধু ফিলিং স্টেশন নয়, খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত করে তেল বিক্রির দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানগুলোতেও এখন অবৈধভাবে ড্রামজাত করে তেল মজুত করা হচ্ছে। এতে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, লালমনিরহাট একটি কৃষিপ্রধান জেলা। এখানে সেচ কাজের জন্য বড় অঙ্কের জ্বালানির প্রয়োজন হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার গুজবেই স্থানীয় সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে এই মজুতদারি সাধারণ মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

লালমনিরহাটে জ্বালানি তেল মজুতের হিড়িক

তেলের কোনো সংকট নেই জানিয়ে হোসেন ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল সাত্তার বলেন, ‘মোটরসাইকেল ও ট্রাকচালকরা মোবাইল বা সংবাদমাধ্যমে শোধনাগারে হামলার খবর দেখে আতঙ্কিত হচ্ছেন। বর্তমানে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তেল মজুত আছে এবং বাড়তি কোনো দাম নেওয়া হচ্ছে না। সরকারিভাবে দাম বাড়ার কোনো নির্দেশনাও আসেনি। চালকরা কেন হঠাৎ করে এভাবে মজুত করছেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়।’

এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। অযথা আতঙ্কিত হয়ে তেল মজুত করার কোনো প্রয়োজন নেই।’

হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে তেল মজুত করলে বা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত দাম বাড়ার কোনো সরকারি নির্দেশনা নেই।’

মহসীন ইসলাম শাওন/এসআর/জেআইএম