ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমেছে আমচাষ, বাড়ছে পুকুর

সাখাওয়াত হোসেন | রাজশাহী | প্রকাশিত: ০৩:৫১ পিএম, ০৬ মার্চ ২০২৬

আমের জন্য বিখ্যাত রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগানের জমির পরিমাণ কমেছে। দ্রুত তুলনামূলক বেশি আয়ের আশায় আমবাগান ও ধানিজমি কেটে পুকুর তৈরিতে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এতে এ দুই জেলায় ভূমি ব্যবহারের ধরনে বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজশাহী জেলায় ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে আমবাগান ছিল। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৪১ হেক্টর কমে ১৯ হাজার ৬২ হেক্টরে নেমেছে।

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, জেলায় বর্তমানে প্রায় ৩৭ লাখ আমগাছ রয়েছে, যার মধ্যে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ গাছে ফুল ফুটেছে।

দেশের প্রধান আম উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে বিবেচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জেও হ্রাস পেয়েছে বাগানের পরিমাণ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমবাগান করা হয়েছে। অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৭ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে আমবাগান ছিল। জেলায় বর্তমানে ৯২.৪ লাখ আমগাছ রয়েছে, যার প্রায় ৭০ শতাংশে চলতি মৌসুমে ফুল ফুটেছে।

আমচাষ কমার কারণ হিসেবে মৎস্যচাষের দ্রুত সম্প্রসারণকে দায়ী করছেন কৃষি কর্মকর্তা ও চাষিরা। কারণ কৃষকরা আমচাষের চেয়ে দ্রুত এবং আরও নিশ্চিত লাভের আশা করেন। মূলত আমচাষ অনিয়মিত আবহাওয়া, পোকামাকড়ের আক্রমণ এবং দামের অস্থিরতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু মাছ চাষে সেটি হয় না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য থেকে দেখা যায়, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে শুধুমাত্র রাজশাহী জেলায় ১৬ হাজার ১৫৯ হেক্টর নিট ফসলি জমি হ্রাস পেয়েছে। অথচ একই সময়ে অভ্যন্তরীণ জলাশয় ১৫ হাজার ৪৪ হেক্টর থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৪৯৮ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমেছে আমচাষ, বাড়ছে পুকুর

কৃষকরা বলেছেন, ক্রমবর্ধমান উপকরণ খরচ, শ্রমিকের ঘাটতি, অপর্যাপ্ত হিমাগার এবং অপ্রত্যাশিত ফলনের কারণে আমচাষ ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে মাছ চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আমচাষি শহীদুল হোসেন বলেন, ‌‘আমচাষের জন্য এক দশক আগে বছরে একবার সার এবং কীটনাশক প্রয়োগই সাধারণত যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এখন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পোকামাকড় ও রোগের প্রকোপ বেড়েছে। ফলে কৃষকরা দ্বিগুণ পরিমাণে কীটনাশক স্প্রে করতে বাধ্য হয়েছেন। ফলস্বরূপ, উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে লাভের পরিমাণ কমেছে।’

পবা উপজেলার মাছচাষি নাসির আলী বলেন, ‘মাছচাষ ঐতিহ্যবাহী ধান ও আমচাষের তুলনায় ১০-১৫ গুণ বেশি লাভজনক। এজন্য আমাদের বেশিরভাগ বাগানই এখন পুকুর বানিয়ে ফেলা হয়েছে।’

তবে নওগাঁ জেলায় আমচাষ কিছুটা বেড়েছে। গতবছর ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমচাষ করা হলেও এবার ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সতর্ক করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদ্যা ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত পুকুর খনন মাটির গঠন এবং নিষ্কাশনের ধরন পরিবর্তন করছে। এতে ভবিষ্যতে জমি বাগানে পুনরুদ্ধার করা বা ফসল উৎপাদন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কাজের চর্চার জন্য প্রাকৃতিক মাটির পুষ্টি পুনর্ব্যবহারকে ব্যাহত করে। উর্বর জমি স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

এসআর/এএসএম