ঝিনাইদহে মধ্যরাতে বাসে আগুন, প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ
ঝিনাইদহে বাসে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। রোববার (৮ মার্চ) শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ঝিনাইদহ-ঢাকা, ঝিনাইদহ-খুলনা ও ঝিনাইদহ-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করা হয়।
পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী চলা অবরোধে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী সাধারণ। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করেন শ্রমিকরা।
পুলিশ ও পরিবহন শ্রমিকরা জানান, শনিবার রাতে বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে পাম্প কর্মীদের হামলায় এক যুবক নিহত হন। ওই ঘটনার জেরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় উত্তেজিত জনতা তাজ ফিলিং স্টেশনের মালিকের অপর একটি ফুয়েল পাম্পে ভাঙচুর করে। এছাড়া রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাসের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি তাজ ফিলিং স্টেশনের মালিক সৃজনী এনজিও সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হারুণ অর রশিদের ভাই।

এদিকে বাসে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে মহাসড়ক অবরোধ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার সব মহাসড়কে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, যশোর, বরিশাল, ফরিদপুরগামী অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবিএম খালিদ হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহফুজ হোসেন, সদর থানার ওসি সামসুল আরেফিন, আরাপপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাসসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবহন মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করেন শ্রমিকরা।
পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি রোকনুজ্জামান রানু বলেন, তেলপাম্পের যুবক নিহতের ঘটনার সঙ্গে পরিবহন শ্রমিক বা মালিকদের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু ওই ঘটনার জেরে দুষ্কৃতকারীরা দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেল্লাল হোসেন বলেন, পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তারা অবরোধ করেছেন। যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত রাতে তেল পাম্পের কর্মীদের হামলায় যুবক নিহতের ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে ওই ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে র্যাব।
আটকরা হলেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বারোইখালি গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে নাসিম, আড়ূয়াকান্দি গ্রামের ইউনূস আলীর ছেলে রমিজুল ও কাস্টসাগরা গ্রামের সোফিয়ার রহমানের ছেলে আবু দাউদ।
এম শাহাজান/এফএ/জেআইএম