জমজমাট বাবুরহাট, ঈদে আড়াই হাজার কোটি টাকার ব্যবসার আশা
ঈদ উপলক্ষে নতুন কাপড় নিয়ে প্রস্তুত দেশের বৃহত্তর পাইকারি কাপড়ের হাট নরসিংদীর বাবুরহাট। কয়েক বছরের মন্দাভাব কাটিয়ে বেচা-কেনার ধুম লেগেছে এবার। পাইকারি ক্রেতাদের আনাগোনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। এবারের প্রতি হাটে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। ফলে ঈদ মৌসুমে হাটে দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার লেনদেনের আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
প্রাচ্যের ম্যানচেষ্টার খ্যাত শেখেরচর-বাবুরহাটে দেশীয় কাপড়ের পাইকারি দোকানের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। সপ্তাহে বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার তিনদিন বেচা-কেনা হয় এই বাজারে। বণিক সমিতি জানায়, দেশীয় কাপড়ের প্রায় ৭০ ভাগ পূরণ হয় এই হাট থেকে। এই হাটের সঙ্গে ছোট বড় দোকান মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জীবিকা নির্ভর করে।
জানা যায়, দেশের অন্যতম দেশীয় কাপড়ের পাইকারি বাজার প্রাচ্যের ম্যানচেষ্টার খ্যাত নরসিংদীর শেখেরচর বাবুরহাট। শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি-পিস, শার্ট পিস, প্যান্ট পিস, পাঞ্জাবির কাপড়, থান কাপড়, পপলিন কাপড়, ভয়েল কাপড়, সুতি কাপড়, শাটিং কাপড়, বিছানার চাদর, পর্দার কাপড় থেকে শুরু করে গামছা উৎপন্ন হয় স্থানীয় তাঁত ও সহায়ক শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে। একইসঙ্গে দেশের প্রসিদ্ধ টাঙ্গাইলের শাড়ি, জামদানি, কাতানসহ বিভিন্ন প্রকারের কাপড়ের সম্ভারে বাবুরহাটের সংগ্রহকে করেছে সমৃদ্ধ।

এবার ঈদ উপলক্ষে নিত্যনতুন ডিজাইনের কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। বাবুরহাটের এই ব্যস্ততা নতুন নয়, সারা বছরেরই চিরচেনা চিত্র। তবে ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে বাবুরহাটের বাবুদের বাবুগিরি। দরজায় কড়া নাড়া ঈদের কাপড় কিনতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ভিড় জমিয়েছেন বাবুরহাটে। হাটের প্রতিটি অলি-গলি ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখর।
এই হাট ঘিরে নরসিংদী জেলাসহ নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে গড়ে উঠেছে কয়েক লাখ তাঁতকল। একইসঙ্গে রয়েছে কয়েকশ সহায়ক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এবার কাপড়ের দাম নাগালের মধ্যেই রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবারের ঈদে বাহারি রকমের কালেকশন রাখা হয়েছে। ক্রেতারা তা খুব পছন্দ করছে, বিক্রিও বেশি হচ্ছে।
বাদ্রার্স প্রিন্ট শাড়ির স্বত্বাধিকারী শামীম মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে এ বছর বাবুরহাটে বেচা-কেনার ধুম লেগেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এই বছরের বেচাকেনা ভালো হয়েছে। রোজার প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহেও আশানুরূপ বেচাকেনা হয়েছে। আশা রাখছি বাকি সময়গুলোতে আরও ভালো মুনাফা ও বেচাকেনা হবে।

আলিকা প্রিন্ট শাড়ির স্বত্বাধিকারী সুলতান উদ্দিন সরকার বলেন, এ বছর শাড়ি-থ্রিপিসের হরেক রকম কালেকশন এসেছে। দামও হাতের নাগালে। পাইকাররা স্বাচ্ছন্দ্যে কাপড় কিনছেন। আশা রাখছি এবারের ঈদে ভালো মুনাফা হবে।
কাজল ক্লথ স্টোরের মালিক কাজল সাহা বলেন, এ বছর ইন্ডিয়ান কাপড়ের চেয়ে আমাদের দেশের কাপড়ের চাহিদা বেশি।

দোকানের কর্মচারী রফিক বলেন, বেচাকেনায় ব্যস্ত সময় পার করছি। এবারের ঈদে বাহারি রকমের কালেকশন রয়েছে। ক্রেতারা তা খুব পছন্দ করছে, বিক্রিও বেশি হচ্ছে।
অন্যদিকে ভালো মান আর কম দামের সুবিধা নিতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন ব্যবসায়ীরা। রোজার আগে থেকেই পাইকারি কেনা-বেচা শুরু হলেও খুচরা বেচা-বিক্রি এখনো শুরু হয়নি। তবে বিগত বছরের চেয়ে এ বছর আশানুরূপ বিক্রির প্রত্যাশা তাদের।

আমানত শাহ গ্রুপের পরিচালক রেজওয়ান কবির শিহাব বলেন, এবারের ঈদে ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকায় নতুন নতুন ডিজাইনের লুঙ্গি বাজারে এনেছে আমানত শাহ গ্রুপ। যা সারাদেশেই পছন্দের তালিকায় রয়েছে। এবারের ঈদে বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে।
ব্যবসায়ী নেতা নরসিংদীর শেখেরচর-বাবুরহাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, নিয়মিত হাটের চেয়ে রমজানে বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ক্রেতাদের সাড়া পাওয়ায় বিগত সময়ের ক্ষতি এ বছর পুষিয়ে নেবে ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় ৬৪টি সিসি ক্যামেরা বসানোসহ প্রশাসনের সহায়তায় নেওয়া নানান ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবারের প্রতি হাটে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। ফলে ঈদ মৌসুমে হাটে দুই থেকে আড়াই হাজার (২৫০০) কোটি টাকার লেনদেন হবে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ী নেতারা।
এফএ/জেআইএম