ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ফরিদপুরে জমি দখলের অভিযোগ, ইউএনও-ওসির দ্বারস্থ গ্রামবাসী

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ১১:০৮ এএম, ১০ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ভূমিদস্যুদের অত্যাচারে ও দীর্ঘদিনের হয়রানির শিকার হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ছুটে গিয়ে প্রতিকার ও বিচার চেয়েছেন শতাধিক ভুক্তভোগী পরিবার। পরে সংশ্লিষ্টদের আশ্বাসে ফিরে যান তারা।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ছুটে যান উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের দুর্গম চরশালেহপুর ও মুন্সিরবাজার এলাকার বাসিন্দারা। তাদের মধ্যে অনেকে নদী ভাঙনের শিকার হয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। অন্যত্র বসবাস করলেও দুর্গম চরটিতে তাদের ফসলি জমি রয়ে গেছে।

জানা যায়, দুপুরে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ছুটে যান ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। এ সময় প্রায় আধাঘণ্টা সেখানে তারা অবস্থান করেন। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানা চত্বরে ছুটে যান। এ সময় তারা ভূমিদস্যুদের বিচার চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিলে ওসির কক্ষে প্রতিনিধি দলকে ডেকে নিয়ে আশ্বস্ত করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার চরশালেহপুর এলাকার প্রভাবশালী বাসিন্দা ও সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন কবির খাঁর নেতৃত্বে ইব্রাহীম খাঁ, আজিজ খাঁ, মোসলেম খাঁ, সালাম খাঁসহ অনেকে- চরের প্রায় ৪শ’ পরিবারের এক হাজার একর জমি দখলে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের পৈতৃক জমিসহ সরকারি বন্দোবস্তের জমিও রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় ফসল কেটে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন। এর প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধমকিসহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা।

এ সময় ভুক্তভোগী মো. মোসলেম মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, ২০১৫ সাল থেকে আমার জমি জোরজুলুম করে নিয়ে গেছে। আমার একটা আমের বাগান ছিল তা ২০১৭ সালে লুট করে নিয়ে যায়। আমার ছেলে বাধা দিতে গেলে তার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত সাতদিন আগে বিচার দিতে আমরা এমপির কাছে গিয়েছিলাম, ওইদিনই আমার দুই একর জমির শরিষা কেটে নিয়ে গেছে। রোববার রাতে মুন্সিরবাজার এলাকায় আমাকে পেয়ে গলায় গামছা পেচিয়ে মারধর করেছে। আমাকে গালি দিয়ে বলেন- ‘এমপির কাছে যাইস, এমপি সাহেবের ভাত কি আমরা খাই; তোরে জীবনে শেষ করে ফেলাব’। পরে এমপির নির্দেশে আমরা ইউএনও এবং ওসির কাছে এসেছি। আমরা এই সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুদের বিচার চাই।

আরেক ভুক্তভোগী শেখ মোয়াজ্জেমের স্ত্রী লাইলী বেগম অভিযোগ করে বলেন, কবির খাঁ দুই বছর ধরে আমার জমি দখল করে রাখছে, আমার জমিতে যেতে পারি না। কয়েকদিন আগে আমার ক্ষেত থেকে কলমি তুলছিলাম, তখন তারা আমাকে মারধর করে। আমার ঘরের ভেতর ভাঙচুর চালায়, দলিল খুঁজতে থাকে আর বলে- দলিল আছে কোথায় দলিল দে, দলিল নিয়ে যাবো। এ ঘটানায় আমি হাসপাতালে তিনদিন ভর্তি ছিলাম। আমরা নিরুপায় হয়ে এমপির কাছে গিয়েছিলাম, এমপি আমাদের এখানে পাঠিয়েছে। আমাদের জমি আমরা ফেরত চাই।

এদিকে সব অভিযোগ বানোয়াট মিথ্যা বলে দাবি করেন কবির খাঁ বলেন, আমিসহ যাদের নামে অভিযোগ করেছে তাদের প্রত্যেকের সরকারি বন্দোবস্তের কাগজপত্র রয়েছে। আদালতে আমাদের রায়ও দিয়েছেন। এখন তারা আদালতে হেরে বিভিন্ন জায়গা আমাদের নামে বদনাম ও অভিযোগ করছে। মামলায় যদি তারা হেরে যায় তারা জমি নিবে কিভাবে। এসিল্যান্ড, তহসীলদার সবই জানে; এরপরেও তারা অন্যায়ভাবে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করছে। ২০১৫ সালে যেসব জমি বন্দোবস্ত হয়েছে এর বাইরে যত জমি আছে তা দিপু খাঁ, আমির খাঁ, মহিদ খাঁসহ অনেকে অবৈধভাবে দখলে আছে, তাদের নেতৃত্বেই আজ মিছিল করছে।

চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় আদালতের। আমাদের কাছে তারা বিচার চাইতে এসেছিল। সেক্ষেত্রে এলাকায় কেউ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করলে তিনি যেই হোক তাকে দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল উদ্দিন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নামে বিভিন্ন অভিযোগ আমরা আগেও পেয়েছি, আজও গ্রামবাসী এসেছিলো। তাদের আমরা আশ্বস্ত করেছি- এসিল্যান্ডের মাধ্যমে সমাধান করা হবে।

এন কে বি নয়ন/এনএইচআর/জেআইএম