ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মিরপুর অগ্নিকাণ্ড

বিমানবাহিনীর সদস্য অনন্যার বাড়িতে শোকের মাতম

জেলা প্রতিনিধি | নীলফামারী | প্রকাশিত: ০৪:৩৫ পিএম, ১০ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের শপিংমলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যার (২৪) বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর পূর্বপাড়া এলাকায় অনন্যার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশীদের ভিড় আর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ।

নিহত আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা ওই এলাকার আব্দুল হান্নানের বড় মেয়ে। চার বছর আগে তিনি বিমানবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদান করেছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে অনন্যা মিরপুর-২ এলাকার একটি বহুতল শপিংমলে গিয়েছিলেন। দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলে তিনি ভেতরে আটকা পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে অনন্যা ও তার সহকর্মী শেখ রাকিবুজ্জামান মৃত্যুবরণ করেন। শেখ রাকিবুজ্জামানের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায়।

অনন্যার চাচা আবুল কালাম আজাদ জানান, অনন্যার পরিবার খুব গরীব, চাকরি পাওয়ার পরে তার পরিবার কিছুটা স্বাবলম্বী হয়েছে। তবে গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার ছোট বোন সূর্বণা আকতারকে বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষ কল দিয়ে জানায়, মিরপুরে শপিংমলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় শেখ রাকিবুজ্জামান নামে বিমানবাহিনীর সদস্য মারা গেছেন এবং অনন্যা নিখোঁজ রয়েছেন। পরে সেটা জানার পরে তার বাবা মা ও ছোট বোন গতকাল রাতে ঢাকায় যান। পরে তারা কল দিয়ে জানায়, অনন্যা রাতেই মারা গেছে।

তিনি বলেন, তার মৃত্যুর খবরে এলাকার শোকের ছায়া নেমেছে। আমরা তাকে হারিয়ে খুব হতভম্ব। অনন্যার জানাজা সৈয়দপুরের নিচুকলোনী ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে শহরের হাতিখানা কবরস্থানে আমরা তাকে তার নানির কবরের পাশে দাফন করবো।

তার ফুফু ফরিদা পারভীন বুলবুলি বলেন, আমি তাকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসি। সে যখন চাকরিতে যায়, তখন তাকে ছাড়তে কষ্ট পেয়েছি। সেই অনন্যা এভাবে হারিয়ে গেলো, সেটা কীভাবে সহ্য করবো। আমরা তাকে হারিয়ে সবকিছু হারিয়ে ফেললাম।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা বলেন, আমি পরিবারের খোঁজ খবর নিচ্ছি। তার পরিবারকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সেটা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আমিরুল হক/কেএইচকে/এমএস