হাতির অভয়ারণ্যে দুই ইউপি সদস্যের গোপন সিসি ব্লক কারখানা
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে গারো পাহাড়ের গহিন অরণ্যে অভিনব কৌশলে সিসি ব্লক তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছেন স্থানীয় দুই ইউপি সদস্য। হাতির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ওই এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করে তৈরি করা এসব ব্লক জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বন ও প্রকৃতি, হুমকির মুখে পড়েছে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ১ নম্বর পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম সমশ্চুড়া গ্রামের ভারত সীমান্তবর্তী ‘কোনাবাড়ী বড়খোল’ নামক স্থানে এই কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। বন্যহাতির অবাধ বিচরণক্ষেত্র হওয়ায় এই দুর্গম এলাকায় সাধারণত মানুষের যাতায়াত নেই। এই সুযোগে স্থানীয় দুই ইউপি সদস্য— ওমর ফারুক ও নবী হোসেন রঞ্জনা ঝরনা থেকে অবৈধভাবে বালু, নুড়ি ও সিঙ্গেল পাথর উত্তোলন করে বড় পরিসরে সিসি ব্লক তৈরি করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে গারো পাহাড়ে অনেকেই নানাবিধ অপকর্ম করছে। প্রতিবাদ করতে গেলে মব তৈরি করে হেনস্তা করেন। কারবারিরা এর আগেও এই পাহাড়ে পরিবেশ উপদেষ্টা রেজওয়ানা চৌধুরীর গাড়িবহর আটকিয়ে মব তৈরি করেছিল। এদের লাগাম টেনে ধরতে না পারলে পাহাড় শেষ করে ফেলবে।
তারা জানান, নালিতাবাড়ীর ওপর দিয়ে প্রবাহিত দুটি নদীর বালু মহাল বন্ধ থাকায় স্থানীয়ভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে। তাই গহীন পাহাড়ে সিসি ব্লক তৈরি করে অভিনব কৌশলে বালু ও পাথর বিক্রির উপায় খুঁজে বের করেছেন স্থানীয় দুই ইউপি সদস্য নবী হোসেন ও উমর ফারুক। তারা জেলাসহ বিভিন্ন এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব তৈরিকৃত সিসি ব্লক বিক্রি করছেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. উমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, নিজের পুকুরপাড়ে ব্লক বসিয়ে মেরামতের জন্য এসব সিসি ব্লক তৈরি করেছি। এখন এসব বেআইনি হলে তো কিছুই করার নেই, যা হওয়ার হবে।
পুকুরের পাড় মেরামতের জন্য এত বেশি পরিমাণ ব্লক তৈরি করা হচ্ছে কেন নাকি এসব ব্যবসায়িক কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে? এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি।
বিষয়টি নিয়ে ‘সেভ দ্যা ওয়াইল্ড লাইফ এন্ড ন্যাচারের (সোয়ান) শেরপুরের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান লিজান বলেন, গারো পাহাড়ের গহিনে এভাবে ব্লক তৈরির কারখানা মানে বনভূমি দখল করা আর বনে গাড়ি, পাথর ভাঙা মেশিনের শব্দে সেখানে থাকা পশু-পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণীদের ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ওই এলাকার প্রাণীরা অন্যত্র চলে যাবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বন বিভাগের মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জের বনবিট কর্মকর্তা মো. কাউসার আহম্মেদ বলেন, কারখানাটি যে স্থানে স্থাপন করা হয়েছে, সেখানে আমাদের লোকজনের খুব একটা যাতায়াত নেই। এ কারণে আগে বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত ছিলাম না। তবে তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ সময় সিসি ব্লক তৈরির সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিসি ব্লক তৈরির সব ধরনের সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, আগে থেকে উত্তোলন করে রাখা বালু এবং পাথর দিয়ে নিজেদের জায়গায় তারা ব্লক তৈরি করছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। এটি আইনসিদ্ধ নাকি অবৈধ সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মো৷ নাঈম ইসলাম/কেএইচকে/এমএস
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ ১৬ মার্চ থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের হুঁশিয়ারি পাম্প মালিকদের
- ২ ঝালকাঠিতে খাল খননে দেড় কোটি টাকা ব্যয়েও কাটেনি জলাবদ্ধতা
- ৩ কুমিল্লায় সড়কের ৫ হাজার ইট উধাও, উদ্ধার হলো গরুর খামার-পুকুর থেকে
- ৪ দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে দুই সহস্রাধিক এলাকাবাসীকে নিয়ে ইফতার প্রবাসীর
- ৫ ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতি শনিবার চলবে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম