ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গাইবান্ধার ঈদবাজারে ফুটপাতে কেনাকাটার ধুম

জেলা প্রতিনিধি | গাইবান্ধা | প্রকাশিত: ০৯:১৩ এএম, ১৮ মার্চ ২০২৬

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। ঈদ ঘিরে গাইবান্ধায় জমে উঠেছে কেনাকাটা। শহরের নামিদামি শপিংমলগুলোতে সামর্থ্যবানদের ভিড় থাকলেও ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তরা। তারা সামর্থ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গাইবান্ধার বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের আনাগোনা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন শপিং মল, বিপণিবিতান ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে চলছে কেনাকাটার ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে।

নদীভাঙন আর মঙ্গাপীড়িত জেলা গাইবান্ধা। এই অঞ্চলের ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সে কারণে অর্থনৈতিকভাবে এই জেলা তেমন উন্নত নয়।

ঈদের আগে চাকরিজীবীরা হাতে বেতন ও বোনাস পেলেও নিম্ন আয়ের মানুষ ঈদে কেনাকাটা করলেও সেটা অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ, সুপার মার্কেটগুলোতে পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি। তাই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ সামর্থ্যের মধ্যে ঈদের কাপড় কিনতে ভিড় করছেন ফুটপাত ও সাধারণ দোকানগুলোতে।

এদিকে ঈদ সামনে রেখে, শহরের ডিবি রোড, নিউমার্কেট রোডের দুই পাশ জুড়ে সারি সারি সারি অস্থায়ী দোকান। শিশুদের ফ্রক, পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, সালোয়ার- কামিজ, জুতা, স্যান্ডেল, ব্যাগ বেল থেকে শুরু করে টুপি, আতর ও জায়নামাজসহ বিভিন্ন পণ্য এসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে শহরের বিভিন্ন ফুটপাতে গড়ে ওঠা দোকানগুলোতর উপচে পড়া ভিড়। পা ফেলার জায়গা নেই। সন্ধ্যায় ইফতারের পর বিশেষ করে গাউন পট্টি, স্টেশন এলাকা ও স্বাধীনতা প্রাঙ্গণে নিম্ন আয়ের মানুষা কেনাকাটা করছেন।

গাইবান্ধার ঈদবাজারে ফুটপাতে কেনাকাটার ধুম

স্বাধীনতা প্রাঙ্গণের কাপড় ব্যবসায়ী আহাদ মিয়া বলেন, ‘এখানে ক্রেতাদের বড় অংশই নিম্ন আয়ের মানুষদের। মানুষের সাধ্যের মধ্য ভালো মানের কাপড় বিক্রি করা হয়। রিকশা চালক হাসিফ মিয়া বলেন, আমাদের কেনাকাটা মানেই ফুটপাত। কারণ আমাদের টাকা কম, তাই বড় দোকান গুলোতে যাওয়ার সাহস পাই না।’

শহরের পুরাতন জেলখানা মোড়ে ঈদের কেনাকাটা করতে পৌরসভার তিনগাছ তলা এলাকা থেকে এসেছেন মোহাম্মদ আলী। তিনি পেশায় দিনমজুর কৃষি শ্রমিক। তিনি বলেন, ‘বড় দোকান থেকে কাপড় কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই। এখানে কম দামে ভালো কাপড় পাওয়া যায়। তাই এখানে থেকে কমদামে নতুন জামা কিনতে পারছি।’

শহরের গাউনপট্রি মার্কেটটি কমদামের পোশাকের জন্য সবার পরিচিত। সেখানেই ফুটপাতে জামা-কাপড় দেখছেন হাফেজা বেগম। তিনি বলেন, ‘মাত্র ২ হাজার টাকার মধ্যে পরিবারের সবার কাপড় কিনতে হবে। হামরা তো আর বড়লোক নোয়াই (নই), যে বড় দোকান থেকে কিনবো। হামরা গরীব মানুষ, যে ট্যাকা আনচি, এই কমদামি মার্কেট (এখানে) থাকি কাপড় কেনা নাগবে (লাগবে)।’

ক্রেতা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘দুখ্যান লুঙ্গী কিনছি পাঁচশো টাকা দিয়ে। একটা পাঞ্জাবি চার পাঁচশোর মধ্য কিনবো। গরিবের কোনো ঈদ না। ধনী মানুষদের জন্য ঈদ।’

শহরের চৌধুরী শপিংমলের আহান ফ্যাশনের কর্ণধার রনি বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে বিক্রি মোটামুটি ভালো হচ্ছে। তবে গতবছরের তুলনায় এবছর কাপড়ের দাম বেশি। বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়। অনেক ক্রেতা দাম বেশি শুনেই ফুটপাতের দোকানে চলে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুদের পোশাকের চাহিদা বেশি। ১০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে শিশুদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। নারীদের সালোয়ার-কামিজ, ছেলেদের শার্ট-প্যান্ট ও পাঞ্জাবি ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এবার সব দেশি পোশাক। কোনো বিদেশি পোশাক নেই।’

বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেকের পক্ষেই বড় মার্কেটে কেনাকাটা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ফুটপাতের স্বল্পমূল্যের কাপড় ও পণ্যের দোকানগুলোই হয়ে উঠেছে তাদের একমাত্র ভরসা।

আনোয়ার আল শামীম/এমএন/এমএস