ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

৯ বগি লাইনচ্যুত

লাল পতাকা দেখানো হলেও ট্রেন থামাননি চালক, দাবি স্থানীয়দের

নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া | প্রকাশিত: ০৭:৩৫ পিএম, ১৮ মার্চ ২০২৬

সান্তাহার জংশনের কাছাকাছি ছাতনীগ্রামের বাগবাড়ি এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুতের কারণ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। রেলওয়ের প্রাথমিক তথ্য ও স্থানীয়দের বক্তব্যে একাধিক সম্ভাব্য কারণ সামনে এসেছে।

সান্তাহার রেলস্টেশন মাস্টার আছিয়া খাতুন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলের রেললাইনে আগে থেকেই ত্রুটি ছিল। তার দাবি, সেই ত্রুটির কারণেই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাদের দাবি, লাইনম্যান আগে থেকেই বিপদসংকেত দিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রেনচালক সেই সংকেত উপেক্ষা করেন বা খেয়াল করেননি।

লাল পতাকা দেখানো হলেও ট্রেন থামাননি চালক, দাবি স্থানীয়ের

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‌‘লাল পতাকা দেখানো হয়েছিল। যদি সেটা মানা হতো, তাহলে হয়তো এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।’

রেললাইনের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন

ট্রেন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দেশে সবচেয়ে বেশি যে কারণটি উঠে আসে, তা হলো রেললাইনের ত্রুটি ও দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো লাইন, নিয়মিত পরিদর্শনের অভাব এবং সময়মতো মেরামত না করাই এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।

আরও পড়ুন:
ট্রেনটা হঠাৎ কেঁপে উঠলো, তারপরই দেখি মানুষ চিৎকার করছে

সান্তাহার রুটটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত রেলপথ। প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন এই পথে চলাচল করে। ফলে লাইনের ওপর চাপও বেশি।

লাল পতাকা দেখানো হলেও ট্রেন থামাননি চালক, দাবি স্থানীয়ের

রেলওয়ের সাবেক প্রকৌশলী আবুল হোসেন বলেন, ‘যেখানে লাইন দুর্বল, সেখানে গতিনিয়ন্ত্রণ খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর সিগন্যালিং সিস্টেম যদি ঠিকমতো কাজ না করে, তাহলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।’

উদ্ধার কার্যক্রম ও রেললাইন সচল করার চেষ্টা

দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই রেলওয়ের উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে। লাইনচ্যুত বগিগুলো সরিয়ে নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তত একটি লাইন সচল করার চেষ্টা চলছে, যাতে আংশিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু করা যায়।

উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিস, রেলওয়ে কর্মী এবং স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দেখা গেছে। তবে ভারী বগি সরানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত লাইন ঠিক করতে সময় লাগছে।

লাল পতাকা দেখানো হলেও ট্রেন থামাননি চালক, দাবি স্থানীয়ের

তদন্ত কমিটি গঠন

দুর্ঘটনার পরপরই পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে রয়েছেন প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী এবং চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তাদেরকে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয় এবং দায়ীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসআর/এএসএম