কুষ্টিয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় হামলা, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৭
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কোমল পানীয় বোতলের ছিপি ছুড়ে মারাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (২২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- কয়া ইউনিয়নের রাধা গ্রামের বাবু শেখের ছেলে মো. রাব্বি (২২), মকছেদ শেখের ছেলে মো. ওবাইদুল্লাহ (৩০), লিটন শেখের ছেলে জনি শেখ (২০), বেড় কালোয়া গ্রামের মোক্তার শেখের ছেলে শারুফ শেখ (২০), আমজাদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), মৃত আকাল উদ্দিনের ছেলে মো. শফিউদ্দিন (৬৫) ও ওবাদুল্লাহ শেখ (৫৫)। তাদের মধ্যে রাব্বি, জনি ও শারুফকে স্বজনরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পাঠান চিকিৎসকরা। অন্যান্যরা গ্রামে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার সকাল ৯টার দিকে বেড় কালোয়া মোড়ে গ্রামের রতন শেখ কোমল পানীয় পান করার পর বোতলের ছিপি ছুড়ে মারেন। এসময় সেটি গ্রামের কাসেট নামের এক ব্যক্তির মাথায় লাগে। তখন তিনি বকাবকি করলে রতন তাকে মারধর করেন। বিষয়টি কাসেট বাড়ি গিয়ে তার ছেলে মামুনকে জানান। মামুন এসে তার বাবাকে মারধরের কারণ জানতে চাইলে রতন তাকেও মারধর করেন। সেসময় ওই মোড়ে থাকা আমজাদ শেখের ছেলে আলম শেখ রতনকে থাপ্পড় দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা বিষয়টি মিটমাট করে সবাইকে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রতন বেড় কালোয়া জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখ, নাসির উদ্দিনসহ তাদের লোকজন এসে বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আলম শেখের পক্ষের অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, কৃষিজমিতে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ ছুটাছুটি করছেন। তাদের অনেকের মাথায় হেলমেট পরা। অনেকের হাতে ঢাল-সরকি, লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র।
সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, আহত জনি, রাব্বি ও শারুফকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তাদের হাতে, বুকে, পায়ে ছররা গুলির ক্ষত।

এসময় আহত জনি শেখ বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টার তারা ১০-১২ জন মসজিদের সামনে আড্ডা দিচ্ছিলেন। তখন জেলেপাড়ার সরদার সন্ত্রাসী ইয়ারুল শেখ, নাসির উদ্দিন, সোহেল রানাসহ কয়েকশ সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল, শর্টগান নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমিসহ অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছি।
জানতে চাইলে মুঠোফোনে আলম শেখ বলেন, সকালে হালকা মারামারি হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরে বিকেলে ইয়ারুল, রতন, নাসির, সোহেলসহ তাদের লোকজন অতর্কিত হামলা করেছে। এতে আমার সাতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সন্ত্রাসীদের বিচারের আশায় থানায় মামলা করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানায়, তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে এসেছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে কী ধরনের গুলি তা বলা যাবে।
এ বিষয়ে জানতে জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আল-মামুন সাগর/এফএ/জেআইএম
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ মণিরামপুরবাসীকে ভবদহের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে চান এমপি এনামুল
- ২ এমপির আশ্বাসে বাড়ি ফিরে রক্তাক্ত বাহাউদ্দিন এখন হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন
- ৩ রঙের বিষে নীল হচ্ছে গড়াই, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শ্রমিকরা
- ৪ ঈদে মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকা, হিমশিম মধ্যবিত্তরা
- ৫ ‘কলসবন্ধন’ করে সুপেয় পানির দাবি জানালেন উপকূলবাসী