ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সেচ সংকটে পুড়ছে বোরো ক্ষেত, ডিজেল না পেয়ে দিশাহারা কৃষক

জেলা প্রতিনিধি | মেহেরপুর | প্রকাশিত: ০২:৫৭ পিএম, ২৮ মার্চ ২০২৬

মেহেরপুরে ডিজেল সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে বোরো সেচ কার্যক্রম। সরকারি সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় পাম্পগুলোতে তেলের জন্য হাহাকার তৈরি হয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল। ভরা মৌসুমে সেচ বিঘ্নিত হওয়ায় ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কৃষি বিভাগ বিকল্প সেচ পদ্ধতির পরামর্শ দিলেও মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের উদ্বেগ কাটছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে মেহেরপুরের মাঠজুড়ে বোরো ধানের চারা বাড়ন্ত অবস্থায় রয়েছে, যা এখন পুরোটাই সেচ নির্ভর। তবে সময়মতো সেচ দেওয়া এখন কৃষকদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিজেলের অভাবে সেচ পাম্প চালাতে পারছেন না অনেক কৃষক। যারা পাচ্ছেন, তাদেরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তবুও প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের।

সদর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের কৃষক আহসানুল হক জানান, তার দেড় বিঘা জমিতে বোরো আবাদ রয়েছে। কিন্তু ডিজেলের অভাবে সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। তিনি বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনমতো ডিজেল পাই না। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ফলন কমে যাবে, বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

সেচ সংকটে পুড়ছে বোরো ক্ষেত, ডিজেল না পেয়ে দিশাহারা কৃষক

একই গ্রামের আরেক কৃষক হারুনুর রশিদ বলেন, পাম্পে তেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পক্ষে চাষাবাদ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অনেকেই অতিরিক্ত তেল মজুত করার চেষ্টা করছেন। এতে সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠছে। অন্যদিকে খোলা বাজারে তেলের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় চাষাবাদের ব্যয় বাড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত খাদ্যের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বোরো মৌসুমে সেচের ওপরই ধান উৎপাদন নির্ভর করে। এই সময়ে ডিজেল সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু মেহেরপুর নয়, দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সেচ সংকটে পুড়ছে বোরো ক্ষেত, ডিজেল না পেয়ে দিশাহারা কৃষক

বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করা, বাজারে নজরদারি বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা না হলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন চাষিরা। এতে শুধু কৃষক নয়, ভোক্তা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়বে—বাড়তে পারে খাদ্যের দাম, তৈরি হতে পারে নতুন সংকট।

এ বিষয়ে মেহেরপুর নূর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, সংকটের আশঙ্কায় কৃষকরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করছেন। যার কারণে সাময়িকভাবে তেলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে।

এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সনজীব মৃধা জানান, পানি অপচয় রোধে আধুনিক সেচ পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজেল সংকটের বিষয়টি ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।

আসিফ ইকবাল/কেএইচকে/এমএস