বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাখাইন সংঘরাজ মহাথেরোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাখাইন সম্প্রদায়ের শ্রদ্ধেয় ধর্মীয় গুরু সংঘরাজ ভদন্ত উ কোইন্দা মহাথেরোর তিন দিনব্যাপী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের তুলাতলী পাড়া বৌদ্ধবিহারে অগ্নিসৎকারের মাধ্যমে এই ধর্মীয় আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
রাখাইন সম্প্রদায় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল থেকে ভিক্ষু সংঘের পিণ্ডদান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল দেশবরেণ্য ভিক্ষুদের দেশনা প্রদান, ছন্দোগুণ পাঠ, রথ পরিক্রমা, অতিথি আপ্যায়ন এবং ঐতিহ্যবাহী ‘আলং’ নৃত্য।
শনিবার অনুষ্ঠিত হয় মহাথেরোর অন্তিম রথযাত্রা। শবদেহ বহন, দোলনা ও শান্তির কুঠি দানকারীদের কাছে হস্তান্তর, ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন, পিণ্ডদান এবং আলং নৃত্যের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পাশাপাশি আতশবাজি প্রজ্বলন এবং বাঁশ ও বারুদ দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী রকেট নিক্ষেপের মাধ্যমে অগ্নিসংযোগ করা হয়, যা পুরো আয়োজনকে আরও তাৎপর্যমণ্ডিত করে তোলে।
কুয়াকাটার সীমা বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভিক্ষু ইন্দ্রবংশী বলেন, বরিশাল বিভাগের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু ভদন্ত উ কোইন্দা মহাথেরোর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে রাজকীয়ভাবে এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাখাইন সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। ঢাকা, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং হাজারো রাখাইন নারী-পুরুষ এতে অংশ নেন। স্থানীয় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতেও এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
উল্লেখ্য, ভদন্ত উ কোইন্দা মহাথেরো (৮৭) গত ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর তুলাতলী পাড়া বৌদ্ধ বিহারে পরলোকগমন করেন। তিনি দীর্ঘ ৬৬ বছর বর্ষাবাস জীবনযাপন করেন। মৃত্যুর পর বিশেষ ব্যবস্থায় ৯৯ দিন তার মরদেহ বিহারে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, ধর্মীয় আচার এবং সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান স্থানীয়দের মাঝে গভীর প্রভাব।
আসাদুজ্জামান মিরাজ/এফএ/জেআইএম